চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফোডেন-এমবাপে দ্বৈরথ

প্রতীকী ছবি।

প্যারিস : এককথায় যাকে বলে তারকা যুদ্ধ। বুধবার রাতের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল আদপে তাই।

মুখোমুখি ইউরোপের দুই তারকাখচিত দল প্যারিস সাঁ জাঁ-ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। তারকা সমৃদ্ধির পাশে মিল আরেক জায়গাতেও। তা হল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না জেতার অপূর্ণতা। আর সেই খেদ মেটানোর লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে যেতে প্রেমের শহর প্যারিসে যুদ্ধ জয়ে নামছেন পেপ গুয়ার্দিওলার ম্যান সিটি।

- Advertisement -

তবু অস্বস্তির চোরাস্রোত রয়েছে। তার কারণ অবশ্যই মৌরিসিও পচেত্তিনো। ২০১৯-২০ মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে পেপের ম্যান সিটিকে ছিটকে দিয়েছিল টটেনহ্যাম। সেই জয়ের নেপথ্য নায়ক ছিলেন পচেত্তিনো। সেবার দলকে ফাইনালে তুললেও আর্জেন্টাইন কোচের ইউরোপ জয়ের স্বপ্ন থমকে গিয়েছিল জুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের সামনে। এবার ফের একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার হাতছানি পচেত্তিনোর সামনে। দুই মরশুম আগে তাঁর হাতে হ্যারি কেন, সন হিউন-মিন ছিলেন। এবার আছে নেইমার-এমবাপের মতো ধারালো অস্ত্র। পিছিয়ে নেই পেপ। গ্যাব্রিয়েল জেসুস থেকে কেভিন ডিব্রুয়েন এবং অবশ্যই ফিল ফোডেনের মতো প্রতিভা মজুত গুয়ার্দিওলার কাছে।

বুধবারের ম্যাচকে অনেকেই দেখতে চাইছেন এমবাপে বনাম ফোডেনের দ্বৈরথ হিসেবে। তবে তাতে অনীহা দুই দলের কোচেই। সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে পচেত্তিনোর স্পষ্ট জবাব, ফোডেনের প্রতিভা আমার অজানা নয়। ইংল্যান্ডে থাকার সময় ওকে দেখেছি। প্রতি মুহূর্তে ও আমাদের বিস্মিত করেছে। এমবাপের সঙ্গে মিল আর অমিল দুটোই আছে। অমিল হল দুজনেই ভিন্ন ধারার ফুটবলার। আর মিলের ব্যাপার হল দুই জনেই প্রতিপক্ষের কাছে আতঙ্ক। আটকানো না গেলে জেতা মুশকিল।

পেপের সঙ্গে লড়াইটাকেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেখতে নারাজ পচেত্তিনো। পিএসজি কোচের কথায়, ম্যান সিটি বিশ্বসেরা দল। আর গুয়ার্দিওলা বিশ্বের সেরা কোচদের অন্যতম। আমি ওঁর কোচিংয়ের ভক্ত। একজন ফুটবল অন্তপ্রাণ কোচ হিসেবে আমার লক্ষ্য থাকবে পেপের কাছ থেকে শেখা, তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করা ও জিতে মাঠ ছাড়া।

পচেত্তিনো যখন পেপবন্দনায় মুখর তখন গুয়ার্দিওলার গলায় জোহান ক্রুয়েফ। হাইভোল্টেজ ম্যাচে নামার আগে সিটি কোচ বলেছেন, বিপক্ষ শিবিরে নেইমার, এমবাপের মতো কোয়ালিটি প্লেয়ার রয়েছে। পিএসজি দলটাই প্রচণ্ড শক্তিশালী। তবে সেই চিন্তায় ডুবে থাকা আমার কাজ নয়। আমি জোহান ক্রুয়েফের কাছে একটা জিনিস শিখেছি। সেটা হল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে উপভোগ করতে শেখা। বড় প্লেয়াররা দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জকে উপভোগ করে। আমি দলের প্রতিটি ফুটবলারের মধ্যে সেই মানসিকতা দেখতে চাই।

দলের রক্ষণভাগ পোক্ত নয়, সেটা ভালোই জানেন কোচ গুয়ার্দিওলা। তাই আক্রমণেই শান দিচ্ছেন স্প্যানিশ প্রশিক্ষক। তবে এমবাপে, নেইমারদের থামানোর ব্লুপ্রিন্ট যে তৈরি সেটাও আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন পোড়খাওয়া কোচ। পেপের মন্তব্য, এমবাপে, নেইমার অসাধারণ ফুটবলার। ১৮০ মিনিট তাঁদের আটকে রাখা অসাধ্য। তাই তাদের নিয়ে যত কম ভাববো তত রাতের ঘুম ভালো হবে। তবে প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক, তাদের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা সিটির রয়েছেন।

বিনা যুদ্ধে যে এক ইঞ্চি জমিও তাঁরা ছাড়বেন না, তা স্পষ্ট পেপের বার্তায়।