খরা কাটাবেন নীরজরা, আশাবাদী ঊষা

নয়াদিল্লি : এক সপ্তাহের সামান্য বেশি। তারপরই বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম প্রতিযোগিতায় লড়াই শুরু করবেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। তার আগে ট্র‌্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে দেশের সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুললেন কিংবদন্তি পিটি ঊষা।

এশিয়ান গেমস এবং চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ১৮ সোনার মালিক ঊষা। টোকিও অলিম্পিকে তাঁর সেরা বাজি জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া। বছর পাঁচেক আগে পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার নীরজকে দেখেন তিনি। ছাত্রী জিসনা ম্যাথিউর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ট্র‌্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের রানী ঊষা। তাঁর কথায়, নীরজকে দেখে নিজের কথা মনে পরে গিয়েছিল। ও তখন ইভেন্টের জন্য তৈরি হচ্ছিল। তার মধ্যেই হাতে জ্যাভলিন রয়েছে এমন কল্পনা করে থ্রো করছিল। আমিও অল্প বয়সে এমন ছিলাম। রাস্তায় পড়ে থাকা নুড়িকেও আমার হার্ডল মনে হত।

- Advertisement -

নীরজের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ঊষা বলেন, নীরজ তখন থেকেই আত্মবিশ্বাসী এবং শক্তিশালী। দেখেই মনে হয়েছিল, এছেলে অনেক দূর যাবে। আমি আশাবাদী, অ্যাথলেটিক্সে ভারতের পদক না পাওয়ার যন্ত্রণা এবার ওর হাতেই মিটবে। নীরজ বছরের শুরুতে ৮৮ মিটার থ্রো করেছে। ফলে ও গেমসে ৯০ মিটারের গণ্ডি পার হয়ে যেতে পারবে। গতমাসে পর্তুগাল, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডে তিনটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন নীরজ। প্রথম দুটিতে সোনা পেয়েছেন। ফিনল্যান্ডে ব্রোঞ্জ জিতলেও সবচেয়ে বড় থ্রো (৮৬.৭৯ মিটার) সেখানেই করেছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে চার নম্বরে নীরজ।

শুধু নীরজই নয়, ট্র‌্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে আরও কয়েকজন অ্যাথলিটের উপর ভরসা করছেন ঊষা। এরমধ্যে লং জাম্পের এম শ্রীশঙ্কর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলে ও ২ নম্বরে আছে। বয়সের অনুপাতে ও বেশ কয়কটা বড় লাফ দিয়েছে। এবছর ও সেভাবে আন্তর্জাতিক ইভেন্টে নামতে পারেনি। ফলে ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় আমি ওর থেকে সারপ্রাইজ আশা করছি। তবে ওকে প্রত্যাশার চাপ দেওয়া ঠিক নয়। খোলা মনে খেললে ও ফাইনালে পৌঁছে ভালো কিছু করতে পারবে।

নিজের ইভেন্ট দৌড় নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন ঊষা। তাঁর মতে, ৪x৪০০ মিটারের মিক্সড টিম রিলেতে মেয়েরা ৫৩ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে পারবে না। ফলে এই ইভেন্টে ভালো কিছু করা কঠিন। আর ছেলেদের ৪x৪০০ মিটারের প্রতিযোগীরা এবছর সেভাবে দৌড়াতেই পারেনি। ফলে ওদের নিয়ে কোনও ভবিষ্যদ্বানী করা সমস্যার।

তবে ডিসকাসের কমলপ্রীত সিং, জ্যাভলিনের অন্নু রানী এবং শটপাটের তেজিন্দরপাল সিং তুরও ফাইনালে পৌঁছাবেন বলে মনে করছেন ঊষা। তাঁর মূল্যায়ণ, কমলপ্রীত ৬৬ মিটারের বেশি থ্রো করেছে, কৃষ্ণা পুনিয়ার জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছে। আর অন্নু খুবই ধারাবাহিক। নিজের সেরা থ্রো করতে পারলে তেজিন্দরপালও ভালো কিছু করবে।

১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ৪০০ মিটার হার্ডলসে চতুর্থ হন ঊষা। পদকের খুব কাছে গিয়ে সাফল্য পাননি। কিন্তু টোকিওয় খরা কাটবে বলে আশাবাদী তিনি।