করোনা হাসপাতালে মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা

269

কলকাতা: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী বা তাঁদের আত্মীয়-স্বজনদের হাসপাতালে মোবাইল সঙ্গে নিয়ে প্রবেশের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা এদিন কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির জন্য ওঠে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ওই মামলাটি ব্যাপারে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি আদালতকে জানান যে ওই ব্যাপারে তিনি এখনও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দেশিকা পাননি। তাই তার পক্ষে এই ব্যাপারে কিছু বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। বিচারপতি আগামী ৭ মের মধ্যে এই মামলার ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে বিশদে রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশিকা দেন। সেই সঙ্গে তিনি মামলাকারীর পেশ করা আবেদনের একটি কপি রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে পাঠাবার নির্দেশ দিয়ে আগামী ৭ মে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, রাজ্যের এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে ভিডিও তুলে সোমনাথ দাস নামের এক রোগী সেটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। কিরকম নারকীয় পরিবেশের মধ্যে ওই হাসপাতালের রোগীদের থাকতে হচ্ছে তা দেখানো হয় ওই ভিডিওতে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় টুইটারে সেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান ওই ভিডিওটি আসল না নকল। বেশ কয়েকদিন অপেক্ষার পরও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এর কোন উত্তর না দিয়ে হাসপাতালে মোবাইল নিয়ে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আর সেই নিষেধাজ্ঞাকে জনস্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে প্রথমে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়।

- Advertisement -

পরে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং প্রধান বিচারপতিকে একটি চিঠি লিখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে আবেদন জানান। সেই আবেদনে অর্জুন বাবু আরও জানিয়েছিলেন যেহেতু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজন আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের লোকেদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না সেহেতু রোগীদের সঙ্গে তাদের আত্মীয়-স্বজনের যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে হচ্ছে তাদের একমাত্র সম্বল। সুতরাং হাসপাতালে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে রাজ্য সরকার চিকিৎসাধীন ও তাঁদের পরিবারের স্বার্থহানি করছেন। তাই অবিলম্বে ওই আবেদন খারিজ করার আবেদন জানান তিনি। এদিন এই দুটি আবেদন শুনানির জন্য উঠলে বিচারপতি উপরোক্ত নির্দেশ দেন।