বছর ঘুরলেও পতিরামে শৌচালয়ে তালা খোলেনি

সাজাহান আলি, পতিরাম : প্রায় এক বছর ধরে পতিরাম বাজারের সুলভ শৌচালয়টি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে বাজারে আসা মানুষজনকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পতিরাম পোস্ট অফিসের সামনে বাসস্ট্যান্ডের গা ঘেঁষে তৈরি হওয়া এই শৌচাগারের পরিষেবা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ জমছে সাধারণ মানুষের মনে। শৌচাগারটি চালুর জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পূর্ত দপ্তরের উদ্যোগে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে শৌচালয়টি তৈরি হয়েছিল। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আধুনিকমানের এই শৌচাগারটি প্রথমদিকে খুব ভালোভাবেই চলছিল। পে অ্যান্ড ইউজ সিস্টেমের শৌচালয়ে স্নান করার সুবিধা সহ নানাবিধ পরিষেবা রয়েছে। প্রথম কয়েক বছর খুব ভালোভাবে চললেও পরে তা বেহাল হয়ে পড়ে। বর্তমানে সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে, শৌচালয়ে গেটের সামনে সিমেন্টের চাড়িতে জল তুলে এনে রাখা হত। মানুষজন এই জল নিজেরা বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করতে বাধ্য হতেন। এই অবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে শৌচালয় সংস্কার করার দাবি ওঠে। তবে পরিষেবা আগের মতো স্বাভাবিক ও উন্নত হয়নি। পরিস্থিতি একসময় এমন বেহাল হয়ে পড়ে যে, প্রায় এক বছর আগে এই শৌচাগার বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

- Advertisement -

পতিরাম বাজারের প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শৌচালয়টি গত এক বছর ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। বিশেষত বাইরে থেকে বিভিন্ন কাজে আসা মহিলাদের সমস্যা সব থেকে বেশি। এবিষয়ে পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান সন্দীপ মণ্ডল বলেন, শৌচালয় বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা মানে বর্তমান গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যর্থতা। তারা উদ্যোগী হয়ে নতুনভাবে চুক্তি করে কাউকে দায়িত্ব দিলে এই শৌচালয় আবার চালু হতে পারে। এটা পুরোপুরি তত্ত্বাবধানকারী পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগের উপর নির্ভর করছে। পতিরামের তৃণমূল নেতা পার্থ ঘোষ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে শৌচালয় বন্ধ থাকার কারণে মানুষজন চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই আমরা কালীপুজোর পরে গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে আলোচনায় বসে এর একটা বিহিত চাইছি।

পতিরাম নাগরিক ও যুবসমাজের পক্ষে আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ প্রামাণিক বলেন, পতিরামের মতো জনবহুল জায়গায় সুলভ শৌচালয় বন্ধ হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের অবিলম্বে পদক্ষেপ করা দরকার। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে নতুন করে কারও সঙ্গে চুক্তি করে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এই শৌচালয় পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে। এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ঠুমকি পাহান বলেন, পতিরাম সুলভ শৌচালয় বন্ধ রয়েছে জেনেছি। আমি সচিবের সঙ্গে কথা বলে চুক্তিপত্রটি দেখে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় ভেবে দেখছি।