শিলিগুড়িতে দোকানের জন্য ভাড়ায় মিলছে পূর্ত দপ্তরের জায়গা

367

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : পূর্ত দপ্তরের জায়গা ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়ায় সেই জায়গা নিয়ে ইচ্ছে করলেই হোটেল বা দোকান খোলা যায়। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের আকাশবাণী ট্রান্সমিটার সেন্টার সংলগ্ন রাস্তার ধারে পূর্ত দপ্তরের জায়গায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদতে  এভাবেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চলছে। দখলদারির এই ব্যবসার তদারকি করছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত এক মহিলা।  কেউ হোটেল, দোকান তৈরি করতে চাইলে ওই মহিলা প্রকাশ্যেই প্রয়োজনীয় পদ্ধতি জানিয়ে আশ্বাসবাণী দিচ্ছেন।

বিষয়টি পূর্ত দপ্তরকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর দিলীপ সিং। তিনি বলেন, ওই দখলদারির পেছনে তৃণমূল কর্মীদের থাকার বিষয়টি কারও অজ্ঞাত নয়। আসলে কাটমানি, দুর্নীতির সঙ্গে এভাবে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করাও তাঁরা শুরু করে দিয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি পূর্ত দপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, আমরা কোনও দখলদারিতে সায় দিই না। যারা এসব করছে, তাদের একটাই পরিচয়, সেটা হল তারা দখলদার। শহরের জ্বলন্ত সমস্যা হল এই দখলদারি। এর মূলে রয়েছে পুরনিগমে ক্ষমতাসীন দল। পূর্ত দপ্তরকে বলছি এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। দখলদারি সরাতে পুরনিগমের কারও কাছে অনুমতি নিতে হয় না।

- Advertisement -

শহরে চেকপোস্ট পেরিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এগোতেই রাস্তার একপাশে নজরে পড়বে আকাশবাণীর ট্রান্সমিটার সেন্টার। সেই ট্রান্সমিন্টার সেন্টারের বাইরের রাস্তার ধারের আশপাশটায় এখন শুধু দখলদারির দৃশ্য নজরে পড়বে। পূর্ত দপ্তরের সেই জায়গা দখল করে বাঁশ, টিন দিয়ে দোকান তৈরি করা হয়েছে। দোকান ছাড়াও বেশ কিছু অংশে বড় জায়গা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে হোটেল তৈরি করা হয়েছে। দখল করে তৈরি করা ওই হোটেল, দোকানগুলির মধ্যে কয়েকটি তালাবন্ধ নজরে পড়ল। যাঁরা ওই জায়গা ভাড়া নিয়েছেন তাঁরা বললেন, কয়েকটি দোকান, হোটেল খালি পড়ে রয়েছে, সেটা ভাড়া নিতে পারেন। ভাড়া শুরু ১,৫০০ টাকা থেকে। চাইলে বাকি খালি অংশেও নিজের ইচ্ছামতো দোকান, হোটেল তৈরি করতে পারেন, তবে গীতা রায়ের অনুমতি নিতে হবে।

এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবেই পরিচিত আকাশবাণীর ট্রান্সমিটার সেন্টারের পেছন দিকের নতুন বস্তির বাসিন্দা ওই গীতা রায়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তাঁর বক্তব্য, খালি পড়ে থাকা হোটেল, দোকানের পরিবর্তে নতুন করে দোকান, হোটেল বানাতে চাইলে একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমার হাতে এখন দোকান, হোটেল তৈরির লোক নেই। পুলিশ-প্রশাসনের কোনও ভয় নেই। তার জন্য আমি আছি। তবে লোকচোখে যাতে না পড়ে তার জন্য পুরোনো বেড়া, কাঠ ব্যবহার করতে হবে। কত লাগতে পারে তার হিসেব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন দোকান, হোটেলের ক্ষেত্রে ভাড়ার রেট ২,০০০ টাকা থেকে শুরু। তবে কতখানি আপনি জায়গা নিচ্ছেন, সে হিসেবে ভাড়া পরিবর্তন হতে পারে। সেটা পরে ঠিক করা যাবে।  ওয়ার্ডের তৃণমূল কমিটির চেয়ারম্যান জিতেন পাল বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের তৃণমূলে ওই নামে কেউ আছে বলে জানা নেই। তবে মুখচেনা হতে পারে। যেই অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।