প্রকাশ্যে ভরছে পুকুর, দর্শক প্রশাসন

204

বহরমপুর: দিবালোকে রমরমিয়ে চলছে পুকুর ভরাটের কাজ। রীতিমতো পুলিশ-প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুরে রানীবাগান-পিলখানা এলাকাতে চলছে এই কাজ। অভিযোগ, পুকুর ভরাটকারী প্রোমোটার অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ার কারণে এলাকাবাসীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং রাজ্য প্রশাসন কোনও জলাশয় ভরাট করা যাবেনা বলে সিদ্ধান্ত নিলেও মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এই সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছেনা বলেই অভিযোগ। বহরমপুর পৌরসভার মেয়াদ প্রায় বছর দুয়েক আগেই শেষ হয়েছে। আর তার পর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে শহরে শুরু হয়েছে একের পর এক পুকুর ভরাটের কাজ। এলাকাবাসীদের অভিযোগ এই প্রোমোটাররা এতটাই প্রভাবশালী, যে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল পাওয়া যায় না।

- Advertisement -

রানীবাগানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘২০১৯ সালে বহরমপুর শহরের এক প্রোমোটার পিলখানা এলাকাতে মনোবীক্ষণের গলিতে ওই পুকুর ভাড়াটের কাজ প্রথম শুরু করেন। তারপর ‘জলাভূমি রক্ষা কমিটি’-র চাপে পুকুর ভরাটের কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গত প্রায় একমাস ধরে আবার ওই পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। দিনে রাতে যখনই প্রোমোটারের লোকজন সুযোগ পান ভ্যান বা ছোট গাড়ি করে আবর্জনা ফেলে পুকুরটিকে ভরাট করে চলেছেন।’

ওই এলাকার আরও কিছু বাসিন্দা জানান, প্রথম পর্যায়ে যখন পুকুর ভরাটের কাজ শুরু হয়েছিল তখন রাতের দিকেই বেশি কাজ হতো এবং সেই সময় আশেপাশের সমস্ত গলির মুখ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হতো যাতে এলাকার কোন বাসিন্দা পুকুর ভরাট দেখতে না পান।

ওই ব্যক্তিদের আরও বক্তব্য, প্রথম পর্যায়ে ওই পুকুরে প্রচুর পরিমাণে আবর্জনা ফেলা হয়েছিল, তার ফলে ওই পুকুরের গভীরতা প্রায় ৮০%-৮৫% কমে গিয়েছে। বর্তমানে পুকুরের ওপরের দিকে অল্প যে জল রয়েছে তাতে কিছু কচুরিপানা ভেসে বেড়ায়। এখন খুব গোপনে ওই পুকুরের একটি পাঁচিলের ধার থেকে আবর্জনা ফেলে পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। এর আগে প্রশাসন পুকুর ভরাট বন্ধ করলেও, পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে এই পুকুর ভরাটের সাথে অমিতাভ পাল নামের বহরমপুরের এক ব্যক্তি সরাসরি জড়িয়ে রয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ মহলে তাঁর অবারিত যাতায়াত। পুকুর ভরাট আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকার জন্য তাঁর অঙ্গুলিহেলনে বহরমপুর থানার পুলিশ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যে’ মামলা দায়ের করেছে। তাই নতুন করে আবার যখন পুকুর ভরাটের কাজ চলছে তখন স্থানীয় লোকজন আর সাহস করে মুখ খুলতে পারছেন না।’

বহরমপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্য বলেন, ‘পুকুর ভরাট কোনও রকম ভাবেই বৈধ নয়। এলাকার পুকুর এবং জলাশয়গুলি ভরাট হয়ে গেলে শহরের জল কোথা দিয়ে যাবে? আমি আগেই বলেছি বহরমপুরে তৃণমূল এবং পৌরসভার এক শ্রেণীর লোক লুটেপুটে খাচ্ছে। টাকা রোজগারের জন্য তাঁরা পুকুর এবং জলাশয় ভরাটে মদত দিচ্ছেন।’

আমাদের সময়ে বহরমপুর পৌরসভা এলাকাতে এত ব্যাপকভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগ ছিল না। এখন দুর্নীতি চরম আকার ধারন করার জন্য আমি এই দল এবং পৌরসভা থেকে সরে এসেছি। নীলরাতনবাবু জানান, বহরমপুর শহরে অবৈধভাবে পুকুর এবং জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে কিছুদিনের মধ্যেই বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে চলেছেন তিনি।

অভিযুক্ত প্রোমোটার অমিতাভ পাল বলেন, ‘আমি বহরমপুর শহরের একজন সম্মানীয় ব্যবসায়ী, আমার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করবার জন্য কিছু লোক মিথ্যে প্রচার করছেন। আমি ওই পুকুরে এক বস্তা মাটিও ফেলিনি, পুকুর ভরাটতো দূরের কথা।’