করোনাকালে খরচ বাঁচিয়ে কৃষকদের সাহায্য পুজো কমিটির

0
135
- Advertisement -

চ্যাংরাবান্ধা: করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেরই আৰ্থিক অবস্থা তলানীতে এসে ঠেকেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনও হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককেই। মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন কৃষকদের অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই। একদিকে করোনা অপরদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার অনেক কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থার কথা মাথায় রেখে এবার পুজোর খরচ বাঁচিয়ে দুঃস্থ মানুষদের সাহায্য করার পাশাপাশি বেশ কিছু গরীব চাষীর হাতে ফসলের বীজ এবং রাসায়নিক সার তুলে দেবার পরিকল্পনা নিয়েছে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের চ্যাংরাবান্ধা জুনিয়র বেসিক স্কুল সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি।

পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। শুরু থেকেই নিয়মনিষ্ঠার দিকেও নজর দিয়ে দুর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছে এই পুজো কমিটি।

শতবর্ষ প্রাচীন এই পুজো হয় সাবেকি ঢঙে। যার ব্যতিক্রম নয় এবারও। পুজোর আয়োজনের প্রায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছে পুজো কমিটির সদস্যদের মধ্যে। পুজোর পাশাপাশি বরাবরই পুজোর দিনগুলিতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দর্শনার্থীদের মন জয় করার চেষ্টা করেন পুরোনো এই পূজো কমিটির সদস্যরা। তবে এবার অনুষ্ঠান করা হলেও সেটা করা হবে সম্পূর্ণ সরকারি গাইড লাইন মেনে যারকারণে একটু কাটছাটও করতে হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

এবারও পুজো কমিটি গঠন করে পুজোর কাজ শুরু করা হয়েছে। কমিটিতে গৌতম চন্দ সম্পাদক, রতন দাস সভাপতি এবং শুভময় ঘোষকে কোষাধক্ষ্য করা হয়েছে। পূজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সুনির্মল গুহ জানান, এবার স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়মনিষ্ঠায় যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে সেই দিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

পুজোর খরচ বাঁচিয়ে যতটা সম্ভব দুঃস্থ মানুষদের সাহায্য করারও চিন্তাভাবনা রয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন সীমান্ত ঘেঁষা শতবর্ষ প্রাচীন এই দুর্গাপুজো দেখতে ওপারের বাংলাদেশ থেকেও লোকজন আসতেন একটা সময়। পুজো দেখে আবার সীমান্ত পেরিয়ে নাকি ওপারেও চলে যেতেন। তখন অবশ্য সীমান্তে ছিল না কাঁটাতারের বেড়া। ছিল না আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের এতটা কড়াকড়ি। তবে শতবর্ষ প্রাচীন এই পুজোর এখনও একটা আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

- Advertisement -