করোনাকালেও পুলকারের দৌরাত্ম্য ইসলামপুরে, প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকায়

278

ইসলামপুর: কোভিড আবহে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও পুলকার আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ইসলামপুরে। অভিযোগ উঠছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই আসন সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুন পড়ুয়া নিয়ে জাতীয় সড়ক ধরে ছুটছে পুলকার। ঘটনায় ফের একবার বছর পাঁচেক আগের পুলকার দুর্ঘটনার আতঙ্ক মাথাচারা দিয়ে উঠতে করেছে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকায়।

প্রায় বছর পাঁচেক আগের ঘটনা। চাকুলিয়া থানার রামপুর এলাকায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে পুলকার ও লরির সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল আট পড়ুয়ার। দুর্ঘটনাকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ইসলামপুর। একদল ক্ষুব্ধ জনতা একাধিক গাড়িও ভাংচুর করেছিল বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাঁটাতে বাধ্য হয় পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেও আসরে নেমেছিল শাসক-বিরোধী শিবির। অবশেষে, পুলকার দৌরাত্মে রাশ টানতে তৎপর হয়েছিল স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন। একইসঙ্গে তৎপর হয়েছিল বিভিন্ন স্কুল কতৃপক্ষগুলিও। তবে, সময় বদলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুলকারের দৌরাত্ম বাড়তে শুরু করেছে ইসলামপুরে। এমনই চিত্র উঠে এসেছে উত্তরবঙ্গ সংবাদের ক্যামেরায়। তাতে স্পষ্ট, একটি বেসরকারি স্কুলের পুলকারে গাদাগাদি করে পড়ুয়াদের চাপানো হয়েছে। নিয়ম-নীতি না মেনেই তা ছুটছে জাতীয় সড়ক ধরে।

- Advertisement -

পুলকার চালকের কথায়, এখন স্কুল বন্ধ। প্রাইভেট টিউশনের জন্য পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা হয়। তিনি জানান, ওই পুলকারে ১৫ জন পড়ুয়াকে বসানো হয়। যদিও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উত্তরবঙ্গ সংবাদের ক্যামেরায় যে ছবি ধরা পড়েছে তাতে স্পষ্ট যে, ২৫ এর বেশি পড়ুয়া নিয়ে যাতায়াত করছে ওই পুলকার।

করোনা আবহের মাঝেই পুলকার দৌরাত্ম উর্ধমুখী হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ ইসলামপুরের মহকুমাশাসক সপ্তর্ষি নাগ। ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মহকুমাশাসক জানিয়েছেন, দুঘটনা রুখতে পুলিশকে নির্দেশ দেবেন তিনি।

চাকুলিয়ার বিধায়ক আলি ইমরান রমজ(ভিক্টর) বলেন, পুলিশ লরি থামিয়ে টাকা তুলতেই ব্যস্ত। তাদের এসব দেখার সময় নেই। আবার মর্মান্তিক ঘটনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ-প্রশাসন।

সমস্ত ঘটনা প্রসঙ্গে ইসলামপুরের পুলিশ সুপার শচীন মক্করের সঙ্গে একাধিকবার ফোন মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।