কোচবিহার : শীতের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই কোচবিহারের ডালের বড়ি পাড়ি দিচ্ছে অসম, কলকাতায়। সারাবছর ডালের বড়ি তৈরি করলেও বেশকিছুদিন থেকেই ব্যস্ততা বেড়েছে কোচবিহার-২ ব্লকের কামিনীরঘাটে। এখানকার ২২টি পরিবার এই পেশায় যুক্ত। চাহিদা বেশ ভালো থাকায় এখন দিনরাত এক করে বিভিন্ন ধরণের ডালের বড়ি তৈরি চলছে।

শাক-সবজি হোক বা মাছের ঝোল, ডালের বড়ি দিলে সেই পদের স্বাদ বেড়ে যায় অনেকটাই। শুধু গ্রাম-বাংলাই নয়, শহুরে লোকজনও কিন্তু পিছিযে নেই ডালের বড়ির স্বাদ চেখে দেখায়। ফাস্ট ফুড সহ নিত্যনতুন দেশি-বিদেশি খাবার যখন জাঁকিযে বসছে বাড়ির হেঁসেলে তখনও কিন্তু ডালের বড়ি তার জায়গা ধরে রেখেছে।

কামিনীরঘাট গ্রামে ভোর থেকেই শুরু হয় ডালের বড়ি তৈরির প্রস্তুতি। আগের রাতে ভিজিযে রাখা ডাল মেশিনে বেঁটে নেওয়া হয়। এরপর বড়ো মাপের টিনের প্লেটের উপর হাত দিয়ে তৈরি করা হয় কাঁচা ডালের বড়ি। সারাদিন ধরে সেগুলি শুকোনো হয় রোদে। পরে সেগুলি প্যাকেট করে কোচবিহারের বাজার ছাড়াও অসম ও কলকাতায় পাঠানো হয়। ডালের বড়ি তৈরির কাজে বাড়ির মহিলারাও হাত লাগান।

ব্যবসাযী হরেকৃষ্ণ সরকার বলেন, ‘৪০ বছরেরও বেশি সময ধরে ডালের বড়ি তৈরি করছি। এখন মরশুম শুরু হল। ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চাহিদা বেশি থাকবে। পাইকারি দরেই বড়িবিক্রি করি আমরা।’ আরেক ব্যবসাযী অশ্বিনী সরকার বলেন, ‘বিভিন্ন ডালের বড়ির বিভিন্ন ধরনের স্বাদ থাকে। সব ধরনেরই ডালের বড়ি তৈরি করি আমরা।’ বড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক পরিবারের সদস্যা প্রভা সরকার বলেন, ‘সারা বছরই এই কাজ করি। বর্ষায চাহিদা কিছুটা কম থাকে। এখন চাহিদা বাড়বে।’

এক একটি পরিবার প্রতিদিন ১০-১২ কেজি ডালের বড়ি তৈরি করেন। মুসুর, মাস কলাই ও মটরের ডালে তৈরি বড়ির চাহিদা বেশি। পাইকারি দরে, মাসকলাই ৯০-১০০টাকা কেজি, মুসুর ১২০ ও মটরের ডালে তৈরি বড়ি ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে থাকেন তাঁরা। ১২ কেজি ডালের বড়ি তৈরি করে ৫০০-৬০০ টাকা রোজগার হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ ধরনের খাবারের চল ধীরে ধীরে কমতে থাকলেও বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের রান্নায় ব্যবহার করে থাকেন ডালের বড়ি। একসময় ছিল যখন অনেকে বাড়িতেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডালের বড়ি তৈরি করে নিতেন বাড়ির মেয়েরা। কিন্তু এখন ডালের বড়ির জন্য ব্যবসায়ীদের উপরই ভরসা করতে হয় ভোজনরসিকদের।

ছবি-কামিনীরঘাটে ডালের বড়ি দেওয়ার কাজ চলছে।

তথ্য ও ছবি- শিবশংকর সূত্রধর