কৃষি আইনের প্রতিবাদে ধর্নায় বসছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

327

অনলাইন ডেস্ক: কৃষি আইনের প্রতিবাদে ধর্নায় বসছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। গতকালই কৃষি বিলে সম্মতি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এরপর কেন্দ্র দ্রুত তিন আইনের বিজ্ঞপ্তিও জারি করে দিয়েছে। তারপর কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝাঁজ আরও বেড়েছে। আজ এই আইনের প্রতিবাদে ধর্নায় বসছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। খাটকার কালান গ্রামে ধর্নায় বসবেন তিনি। একটি বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনজীবী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিরন্তর কথা বলছি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই জনবিরোধী আইন থেকে কোনও ভাবে পঞ্জাবের মানুষদের বাঁচানো যায় কিনা তা দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল বিলে সাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।দীর্ঘদিন থেকেই বিলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে কৃষকরা। আন্দোলনকারী কৃষক এবং বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই বিলগুলিতে কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে বড় ব্যবসায়ী এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে একতরফা ভাবে ফসলের দাম নির্ধারণ এবং মজুতদারির অধিকার দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরাও একজোট হয়ে বিলে সায় না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতিকে। কিন্তু তারপরেও তিনটি কৃষি বিলেই অনুমোদন দিয়েছেন রামনাথ কোবিন্দ। ফলে এই বিলগুলি আইনে পরিনত হয়েছে। লোকসভায় ‘কৃষি পণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন বিল’, ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন বিল’ এবং ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য (সংশোধনী) বিল’ কোনও ঝামেলা ছাড়া পাস হয়ে যায়।

- Advertisement -

তবে ২০ সেপ্টেম্বর রাজ্যসভায় বিলগুলি পেশ হতেই তুমুল হই-হট্টগোল শুরু হয়। রাজ্যসভায় কৃষি ক্ষেত্রের দু’টি বিল নিয়ে বিতর্কে প্রায় সব বিরোধী দলই দাবি তুলেছিল, এই বিলগুলি সংসদীয় সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। কিন্তু ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে ফেলা মোদী সরকার চলতি অধিবেশনেই বিল পাশ করাতে অনড় মনোভাব নেয়। বিল পাশ হওয়ার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন ভোটাভুটির দাবি তোলেন। স্লোগান, হইহট্টগোলের মধ্যে কে বিলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলছেন, কে ‘না’ বলছেন, তা বোঝার উপায় ছিল না। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ বিলের পক্ষেই সায় রয়েছে জানিয়ে ধ্বনিভোটে বিল পাশ করাচ্ছেন দেখে শুরু হয় গন্ডগোল।

তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন রাজ্যসভা পরিচালনার ‘রুল বুক’ নিয়ে ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের সামনে ছুটে যান। সভাপতির আসনে উঠে পড়ার চেষ্টা করায় মার্শালের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। ডেরেক চিৎকার করে বলেন, ‘এ হতে পারে না।’ বাকি বিরোধী দলের সাংসদরাও ছুটে আসেন। বিলের কপি ছিঁড়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। হরিবংশের টেবিলের নথিও ছেঁড়া হয় বলে সরকারের অভিযোগ। তাঁর টেবিলের তিনটি মাইক্রোফোন ভেঙে দেওয়া হয়। এর পরে রাজ্যসভার অধিবেশন দশ মিনিটের জন্য মুলতুবি করে দেওয়া হয়। তার মধ্যেই রাজ্যসভার নিরাপত্তাকর্মী বা মার্শালরা হরিবংশের টেবিল ঘিরে ফেলেন। সিলেক্ট কমিটিতে বিল পাঠানোর দাবি, বিল পাশে আপত্তি সত্ত্বেও ধ্বনি ভোটে বিল পাশ করানো হয়।

সম্প্রতি এই বিলের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদলের পুত্রবধূ তথা শিরোমণি অকালি দলের নেত্রী হরসিমরত কউর বাদল। হরসিমরতই ছিলেন পঞ্জাবের একমাত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পঞ্জাবে কৃষি বিল বিরোধী আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শরিক অকালি দলও এই বিলের প্রতিবাদে সরব হয়েছে। এনডিএ জোটের অন্যতম পুরনো শরিক হল শিরোমণি অকালি দল। কিন্তু কৃষি বিলের প্রতিবাদে তারা এনডিএ জোটও ছাড়ার কথা ঘোষণা করে।

অকালি দলের বক্তব্য ছিল, কৃষকরা যাতে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পান, আইনে সেটা নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সেই দাবিকে আমল দেয়নি। সেকারণেই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এদিকে, কৃষি বিলের প্রতিবাদে পঞ্জাবের পাশাপাশি দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শুক্রবার কৃষি বিলের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সিপিএম সহ অন্য বামপন্থী সংগঠন, তৃণমূল, কংগ্রেস কেন্দ্রের কৃষি বিলের প্রতিবাদে সরব হয়েছে।

এই বিল দেশের কৃষকদের আর্থিক উন্নতি জন্য আনা হয়েছে বলে শুরু থেকে দাবি করে আসছে মোদি সরকার। বিরোধী আপত্তি উড়িয়ে কার্যত ‘গায়ের জোরেই’ সংসদে বিল পাশ করেছে সরকার। তারপর থেকেই দেশের অধিকাংশ বিরোধীরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। বিলে সই না করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছেন তারা। ১৭টি দলের তরফে আলাদা করে রাষ্ট্রপতিকে চিঠিও দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষকরাও নেমেছেন রাস্তায়। তবে এসবের পরেও আজই এই বিলে সাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।