বিশ্বায়নের যুগেও পুতুলনাচে সাড়া জটেশ্বরে

102

শান্ত বর্মন, জটেশ্বর : বিশ্বায়নের যুগে বয়স্ক, যুবা কমবেশি সকলের হাতেই রয়েছে স্মার্টফোন। এক ক্লিকেই বেরিয়ে আসছে মনোরঞ্জনের নানা বিষয়। তবে জটেশ্বরের শিবমেলায় দেখা গেল ঠিক এর উলটো ছবি।স্মার্টফোনের আসক্তি ছেড়ে মেলায় আসা যুবক-যুবতীরা ভিড় করছেন পুতুল নাচের শো দেখতে। জটেশ্বরের শিবচতুর্দশী মেলায় পুতুল নাচের শো দেখে ব্যাপক খুশি যুবক-যুবতী সহ বয়স্করাও। অনেকে পুতুল নাচের শো ক্যামেরা বন্দিও করেন।

এক সময়ে গ্রাম্য সংস্কৃতির ঐতিহ্য ছিল পুতুল নাচ। শিবমেলা, পৌষমেলা কিংবা চড়কপুজো, দুর্গাপুজোর পরেও গ্রামে এলাকায় পুতুল নাচের শো হত ঘটা করেই। তবে বিশ্বায়নের যুগে সেই পুতুল নাচের শো ইতি টানতে শুরু করে। ঘরে বসেই মোবাইলেই দেখে নেন নানা গান-নাচ। যার ফলে ব্যবসা গোটাতে হয়েছে অনেক পুতুল নাচের টিমকে। অনেকে আবার ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে পুতুল নাচের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয়বস্তুকেও জুড়ে দিয়েছেন। জটেশ্বর এলাকার বর্ষীয়ান হরি রায় বলেন, আগে জটেশ্বর বাজারে শিবমেলা শুরু হলেই মানুষের প্রধান আকর্ষণ ছিল পতুল নাচ দেখা। প্রতিদিন সেই শো দেখতেই মেলায় যেতাম। শশীকান্ত রায় বলেন, শিবমেলা আসলেই টাকা-পয়সা জোটাতে দাদা কাকার নানা নির্দেশ পালন করতাম। পুতুল খেলা দেখব বলেই এসব করতাম।

- Advertisement -

এবারের শিবমেলায় কোচবিহার জেলার বৈরাগীরহাট থেকে পুতুল নাচের দল হাজির হয়েছে জটেশ্বরের মেলায়। সেখানে প্রতিদিন  মেলা শুরুর পরেই দুটি শো চলছে। পুতুল নাচের মাধ্যমে আলোমতি-প্রেমকুমার, ক্ষুদিরামের ফাঁসি, বেহুলা-লক্ষ্মীন্দর, রূপবান সহ পৌরাণিক পালার মধ্যদিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। এর মধ্য দিয়ে সমাজ সচেতনতা, মেয়েদের  অল্প বয়সে বিয়ে না দেওয়া, প্রত্যেক শিশুকে স্কুলে পাঠানো, পণ না নেওয়া সহ সমাজ সচেতনতার বার্তাও পুতুল নাচের মাধ্যমে তুলে ধরছেন উদ্যোক্তারা। আয়োজক সংস্থার তরফে মণিমোহন বিশ্বাস বলেন, বহু কষ্টে পুতুলনাচকে ধরে রেখেছি। পৌরাণিক শো-এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও প্রচার করছি আমরা।