পূর্ব বর্ধমানে ফের জেলা তৃণমূলের সভাপতি হলেন স্বপন দেবনাথ

253

বর্ধমান: আসন্ন বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় রকমের রদলবদল ঘটালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজ্যস্তরের পাশাপাশি জেলাস্তরেও সাংগাঠনিক রদবদল ঘটানো হয়েছে। তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সাংগঠনেও ঘটেছে রদবদল। কার্যহীন করে দেওয়া হয়েছে দীর্ঘ ১২ বছরের লম্বা চওড়া জেলা কমিটি। পরিবর্তে পাঁচজনের একটি জেলা কমিটি গঠন করে দিয়েছে দল। সেই কমিটিতে ‘পুনর্বাসন’ পেয়েছেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের প্রাক্তন সাংসদ মমতাজ সঙ্ঘমিতা। তাঁকে এই কমিটির চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। জেলা সভাপতি পদে পরিবর্তন করা না হলেও ‘কো-অর্ডিনেটর’ করা হয়েছে তিন জনকে।

এ কো-অর্ডিনেটরদের কী কাজ হবে তাও দলনেত্রী এদিন বাতলে দিয়েছেন। জেলা কো-অর্ডিনেটর দেবু টুডুকে রাজ্যস্তরের সমন্বয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে। জেলা যুব সভাপতি পদে তুলে আনা হয়েছে বর্ধমান শহর নিবাসী রাসবিহারী হালদারকে। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকেই জেলা সভাপতি রাখা হয়েছে। কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলা পরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামাণিককে। এছাড়াও ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল ও গলসির বিধায়ক অলোক মাজিকে কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। তবে এই রদবদল নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও জেলার অনেক নেতার বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, উজ্জ্বলবাবুকে এরআগে রাজ্যের তফসিলি ও জনজাতিদের নিয়ে গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। এ দিন তাঁকে জেলার বড় অংশে ‘নজরদারি’ করতে বলা হয়েছে। তাঁর এলাকার মধ্যে রয়েছে, বর্ধমান উত্তর, বর্ধমান দক্ষিণ, কাটোয়া, কালনা, পূর্বস্থলী উত্তর, পূর্বস্থলী দক্ষিণ ও জামালপুর বিধানসভা।

- Advertisement -

সুভাষবাবু দেখবেন, ভাতার, আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, মন্তেশ্বর ও মেমারি। আর অলোকবাবুর ‘নজরদারি’তে থাকবে, গলসি, খণ্ডঘোষ ও রায়না বিধানসভা। কো-অর্ডিনেটদের ব্লকগুলির দিকে নজর রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সমন্বয় কমিটিতে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। রাজ্য সমন্বয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা জেলার কো-অর্ডিনেটর পদে থাকা দেবু টুডু। তিনি ছাড়াও রাজ্য কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল ও কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু। রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেস কমিটিতে স্থান পেয়েছেন জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি শ্রীমন্ত রায়।

জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ এদিন বলেন, “দলের অনুগত কর্মী হিসাবে নেত্রীর নির্দেশ নিষ্ঠার সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো।” দেবু টুডু বলেন,“নেত্রী আমাকে এতবড় পদ দেবেন তা কল্পনাও করতে পারিনি। দলনেত্রীর নির্দেশ মতো দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করবো।” যদিও এই কমিটি গঠন নিয়েও বিরোধীরা খোঁচা দিতে ছাড়েননি। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য বলেন, “যে উদ্দেশে হঠাৎ করে এই কমিটি গঠন করা হল, সেই উদ্দেশ্য সফল হবে না। কারণ মানুষ পরিবর্তন চাইছে। ২১ শে বাংলায় পদ্মই ফুটবে। ”