বর্ধমান, ১৮ মেঃ রাজ্যে এখনও লাগু রয়েছে নির্বাচনী অচরণবিধি। এরইমাঝে শনিবার অস্ত্রের ঝনঝনানির মধ্যেই সম্পন্ন হল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর জামালপুরের বুড়োরাজের পুজো। এদিন পুজো প্রাঙ্গণে পুলিশের উপস্থিতিতেই টাঙি, তীর-ধনুক, বল্লম, রামদা এমনকি বোমা হাতে নিয়ে মন্দির চত্বরে উদ্দাম নাচে মাতোয়ারা হলেন হাজার হাজার ভক্ত। চিরাচরিত প্রথা ও ঐতিহ্যের দোহাই দিয়েই বুড়োরাজের মন্দির চত্বরে এদিন দাপিয়ে বেড়াল সশস্ত্র ভক্তরা। তবে পুলিশি নজরদারি জোরালো থাকায় এদিন কোনও বড় অঘটন ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত যদিও পুলিশি নজরদারিতে নির্বিঘ্নেই পুজো সম্পন্ন হয়।

পুজো দিতে আসা ভক্তদের অনেকে বললেন, ‘বুড়োরাজের পুজোয় অস্ত্র হাতে নিয়ে দাপাদাপির ধর্মীয় কোনো ব্যাখ্যা আছে বলে জানা নেই। সে কারণে এইসব বন্ধ হওয়া দরকার। তাহলেই সকল ভক্ত আতঙ্কমুক্ত হয়ে পুজোয় অংশ নিতে পারবেন।’

প্রতি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন পূর্বস্থলীর জামালপুরে অনুষ্ঠিত হয় বুড়োরাজের পুজো। হাজার হাজার ভক্ত ও সন্ন্যাসী পুজোর দিন হাজির হন বুড়োরাজের মন্দিরে পুজো দিতে। এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পুজোয় অস্ত্র নিয়ে আগমন নিয়ন্ত্রণে কয়েক বছর আগে থেকেই পুলিশ নানা ব্যবস্থা নিয়ে চলেছে। কিন্তু পুরানো রীতির দোহাই দিয়ে এদিনও ধারাল অস্ত্রশস্ত্র, বোমা হাতে নিয়ে ভক্তরা মন্দির চত্বরে জড়ো হন। লোকসভা ভোটপর্ব এখনও শেষ না হওয়ায় বুড়োরাজের পুজোয় আগত অস্ত্রধারীদের অনেকের হাত থেকে অস্ত্রশস্ত্র কেড়ে নেয় পুলিশ। কিন্তু সিংহভাগ ভক্ত অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করায় সবার হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া পুলিশের পক্ষেও সম্ভব হয় না। নির্বাচনী আচরণবিধি রাজ্যে লাগু থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন বুড়োরাজের পুজোয় অস্ত্র হাতে ভক্তদের দাপাদাপি বন্ধ করতে পারলো না, এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।