উত্তর দিনাজপুরে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় শুরু

416

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো উত্তর দিনাজপুর জেলায়ও সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। যদিও এখনও নতুন ধান সেভাবে ওঠেনি। তবে জেলার নয়টি ব্লকেই ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ামক অভিজিৎ ধারা বলেন, ‘গত বছর আমাদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছিল। এই বছর ধান কেনা শুরু হলে রাজ্য থেকে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে পাঠানো হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে পরে লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়বে। আশা করছি ওই লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন হবে।’

- Advertisement -

জেলা খাদ্য দপ্তর জানিয়েছে, ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে নাম থাকলে কৃষকরা সহজেই সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন। প্রকল্পে নাম না থাকলে তাঁরা পরবর্তী নির্দেশিকা না বের হওয়া পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন না। ফলে বিপাকে পড়েছে জেলার কয়েক হাজার ভাগ চাষি। এইবিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সারা ভারত কৃষক সভার উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক সুরজিৎ কর্মকার। তিনি বলেন, ‘জেলার কৃষকদের বড় অংশ নানা জটিল প্রক্রিয়ার কারণে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের বাইরে রয়েছেন। ফলে তাঁরা সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন না। আমরা এই নীতির তীব্র বিরোধীতা করছি। ফলে সরাসরি না হলেও অন্য পথে ফড়েদের উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। অবিলম্বে সকল কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’

চলতি ২০২০-২১ খরিফ মরশুমে ১,৮৬৮ টাকা কুইন্টাল হিসাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে বলে খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ২ নভেম্বর থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়াও কৃষকরা কেন্দ্রীয় ক্রয় কেন্দ্রে এসে সরাসরি ধান বিক্রি করলে তাদের প্রতি আরও ২০ টাকা করে উৎসাহ মূল্য দেওয়া হচ্ছে। রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, করণদিঘি, চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ১ ও গোয়ালপোখর ২ ব্লকে একটি করে ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ধান কেনার প্রক্রিয়ার জন্য কৃষি দপ্তর থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ডেটা বেস খাদ্য দপ্তর সংগ্রহ করেছে। যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে কিংবা আবেদন করেছে তাঁদের তথ্য কৃষি দপ্তরে আছেই। কৃষক বন্ধু প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কৃষকের নাম নথিভুক্ত আছে কিনা তা জানতে ভোটের কার্ড নিয়ে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত থাকলে সেই কৃষকের ধান সরাসরি কেনা হবে। যে সমস্ত চাষিদের নাম এবং জমির তথ্য কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নথিভূক্ত হয়নি তাঁরা ধান বিক্রি করতে পারবেন না। গতবার ভাগ চাষিদেরও আলাদা ফর্ম পূরণ করার মাধ্যমে ধান কেনা হয়েছিল। এবার ভাগ চাষি কিংবা কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নাম নেই তাঁরা সেই সুযোগ পাবেন না। তবে জেলা খাদ্য দপ্তরের নিয়ামক অভিজিৎ ধারা জানান, সবে তো ধান কেনা শুরু হয়েছে। আগে নথিভূক্তদের ধান কেনা হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে অন্যান্যদের থেকেও ধান কেনা হবে।

এদিকে চাষিদের একাংশ জানান, গত বছর ধান কেনা নিয়ে জেলাজুড়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে ধানক্রয় কেন্দ্রগুলিতে (সিপিসি) ফড়েদের দাপট দেখা দিয়েছিল। কৃষকদের দাবি, এবার প্রশাসন আগে থেকেই গোটা প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করুক। তাহলে সরকারি সুবিধা চাষিদের ঘরে ঢুকবে। এইবিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ামক অভিজিৎ ধারা বলেন, ‘আমাদের সিপিসি খোলা রয়েছে। নতুন ধান কৃষকরা আনলেই তা কেনা হবে। শুধু কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নথিভুক্ত চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে এমন নয়। সব চাষিদের কাছ থেকেই ধান কেনা হবে। জেলার নয়টি ব্লকের প্রতিটিতে সিপিসি খোলা হয়েছে। পরে প্রয়োজন অনুসারে আরও অতিরিক্ত সিপিসি খোলা হবে।’