সংরক্ষণের গেরোয় হেভিওয়েট নেতারা, পুরভোটে সমস্যা বাড়বে সব দলের

303

কোচবিহার : সংরক্ষণের জন্য আগামী পুর নির্বাচনে কোচবিহার জেলায বহু হেভিওয়েট প্রার্থীকে সমস্যায় পড়তে হবে। বিশেষত, শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। যেমন, তুফানগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান অনন্তকুমার বর্মা, মাথাভাঙ্গা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান চন্দন দাস ও দিনহাটা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শুভময় চক্রবর্তী নিজেদের আসন থেকে দাঁড়াতে পারবেন না। এছাড়া দিনহাটার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলার অসীম নন্দীও নিজের ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হতে পারবেন না। একইভাবে কোচবিহার পুরসভার তণমূল নেতা শুভজিৎ কুণ্ডুকেও অসুবিধায় পড়তে হবে। নিজের ওয়র্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না কোচবিহার পুরসভার বিরোধী দলনেতা ও সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা।

কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলাশাসক অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘পুর নির্বাচনের আসন সংরক্ষণ নিযে জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠক হয়েছে। সেখানে আসন সংরক্ষণ কীভাবে করা হচ্ছে তা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে। কোচবিহার জেলার ছয়টি পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। এরমধ্যে মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি পুরসভার শিডিউল একবছর আগে ঠিক হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে তুফানগঞ্জ, দিনহাটা, মাথাভাঙ্গা ও কোচবিহার পুরসভার আসন সংরক্ষণ নিযে আলোচনা হয়েছে।’

- Advertisement -

এদিনের বৈঠকে তুফানগঞ্জ পুরসভার ১ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড তপশিলি জাতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড তপশিলি মহিলার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪, ১২ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। এরফলে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পুরসভার শাসকদলের চেয়ারম্যান অনন্তকুমার বর্মা তাঁর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না। পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার ইন্দ্রজিৎ ধর, ৪ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএমের কাউন্সিলার  নিত্যেন্দ্রচন্দ্র দে ও প্রশান্তকুমার পাল তাঁদের ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না। অনন্তকুমার বর্মা বলেন, সংরক্ষণের নিযম সকলকেই মেনে চলতে হবে। দল যদি যোগ্য মনে করে তাহলে অন্য ওয়ার্ড থেকেও আমাকে দাঁড় করাতে পারে।

মাথাভাঙ্গা পুরসভায সংরক্ষণের ফলে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তণমূল কাউন্সিলার তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান চন্দন দাস তাঁর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না। নিজেদের ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না পুরসভার ২, ৭, ৮ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলার পলি সাহা, নির্মলকুমার সাহা, মুকুল সাহা এবং কমল দাস। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান চন্দন দাস বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে প্রতিটি ওয়ার্ডেই আমি কাজ করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। ফলে দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে যেকোনো অসংরক্ষিত ওয়ার্ডেই আমাকে দাঁড় করাতে পারে। দিনহাটা পুরসভায় ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টি তৃণমূলের দখলে। সংরক্ষণের ফলে ১৪ নম্বর আসন তপশিলি জাতি ও ৬ নম্বর আসন তপশিলি মহিলার জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। এছাড়া ১, ৩, ৭, ১০ ও ১৩ নম্বর আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এরফলে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তণমূল কাউন্সিলার তথা ভাইস চেয়ারম্যান শুভময় চক্রবর্তী নিজের ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না। ১ নম্বর ওয়ার্ডের তণমূল কাউন্সিলার জয়দীপ ঘোষ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার গৌরীশংকর মাহেশ্বরী নিজেদের ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার অসীম নন্দী তাঁর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না।

গত পুর নির্বাচনে কোচবিহার পুরসভায় ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টিতে জয়ী হয় তৃণমূল। আসন সংরক্ষণের ফলে ৬ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড দুটি তপশিলি জাতি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড তপশিলি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। এছাড়া ১, ৩, ৭, ১০, ১৫ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। এরফলে পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মহানন্দ সাহা এবং ৭ ও ১৮ নম্বর ওয়াডের্র সিপিএম কাউন্সিলার যথাক্রমে রঞ্জন ভট্টাচার্য ও পার্থপ্রতিম সেনগুপ্ত নিজেদের ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না। ১১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াতে পারবেন না তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলার শুভজিৎ কুণ্ডু। সিপিএম নেতা মহানন্দ সাহা জানান, ‘সংরক্ষণের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে এদিন তাঁদের জানানো হয়েছে। তবে ১৭ তারিখ খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর এ বিষয়ে বাম ও কংগ্রেস একসঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যনির্বাহী সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘আমরা এদিনের মিটিংযে সম্ভাব্য সংরক্ষণ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তাতে কে দাঁড়াতে পারবেন, কে পারবেন না সেটা বড়ো ব্যাপার নয়। প্রতিটি ওয়ার্ডেই আমাদের বহু যোগ্য নেতা রয়েছেন। দল যাঁকে যেখানে দাঁড় করাবে সেখানেই কর্মীরা তাঁর জন্য ঝাঁপিযে পড়বেন।

ছবি- জেলাশাসকের অফিসে পুরভোটের আসন সংরক্ষণ নিয়ে বৈঠক।

তথ্য- গৌরহরি দাস, ছবি- জয়দেব দাস