হলদিবাড়ির রাজ আমলের ডাকবাংলো সংরক্ষণের দাবি উঠেছে

490

হলদিবাড়ি : কোচবিহার জেলার প্রান্তিক শহর হলদিবাড়িতে শতাব্দী প্রাচীন ডাকবাংলো এখনও রাজ আমলের ঐতিহ্য বহন করছে। হলদিবাড়ি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ত দপ্তরের অফিস চত্বরে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন এই ডাকবাংলো। এটি নির্মাণের সঠিক তারিখ জানা সম্ভব না হলেও পুরোনো নথি ঘেঁটে জানা গিয়েছে ১৮৭৮ সালের আগে এটি তৈরি হয়েছিল। এবার ভবনটি হেরিটেজ ঘোষণা করে এর প্রাচীন নির্মাণ শৈলী সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলনে নামতে চলেছে হেরিটেজ সোসাইটির হলদিবাড়ি শাখার সদস্যরা।

হলদিবাড়ি শহরে কোচবিহারের রাজ আমলে যেসমস্ত স্থাপত্য নিদর্শন আছে, তার মধ্যে অন্যতম এই ডাকবাংলো। পুরোনো নথি থেকে জানা গিয়েছে, শুরুতে পুরু খড়ের চাল,কাঠের প্ল্যাংকিং এবং কাঠের দেওয়াল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ডাকবাংলোটি।বর্তমানে খড়ের চাল আর নেই।পরবর্তীতে কিছু পুরোনো শাল কাঠের খুঁটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে ডাকবাংলোটি নির্মাণ করা হয়েছে।উপরিভাগে টিনের চালা দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে এটি পিডব্লিউডি ডাকবাংলো নামে পরিচিত।কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের ব্যবহৃত আসবাবপত্র আজও এখানে সংরক্ষিত আছে।

- Advertisement -

কোচবিহারের থেকে জানা যায়,১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ৬ মার্চ কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কলকাতার ব্রাহ্মসমাজের পুরোধা কেশবচন্দ্র সেনের কন্যা সুনীতি দেবীর সঙ্গে।আর সেই বিবাহ উপলক্ষ্যে মহারাজা এই পথ ধরেই রেলপথে কলকাতায় যান।সেইসময় হলদিবাড়িতে বিশ্রাম নিয়েছিলেন তিনি।আর সেই কারণেই  ডাকবাংলোটি নির্মাণ করা হয়। সেসময় মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ও কেশবচন্দ্র সেনের কন্যা সুনীতিদেবী সহ প্রায় ৫০ জন এই বাংলোতে বিশ্ৰাম নেন।অতিরিক্ত যাত্রীদের জন্য বাংলো সংলগ্ন এলাকাতে অস্থায়ী তাঁবুও খাটানো হয়।

কোচবিহারের রাজ আমলে ডাকবাংলো নির্মাণের পাশাপাশি বাংলোয় অতিথিদের জন্য বেশকিছু আসবাবও তৈরি করা হয়েছিল।আজও বেশ কিছু আসবাব অক্ষত রয়েছে।বর্তমানে ডাকবাংলোয় রয়েছে দুইটি শয়ন কক্ষ,একটি ডাইনিং হল।বাংলোর সামনের দিকে বসার জন্য রয়েছে একটি ঘর। মোট চারটি খাট,দুটি ড্রেসিং টেবিল,দুটি আলনা,দুটি ল্যাম্প টেবিল ইত্যাদি ওই ঘরগুলিতে রয়েছে। ডাইনিং হলে রাজ আমলে নির্মিত একটি ডাইনিং টেবিল, একটি সাধারণ টেবিল, একটি কাঠের সুদৃশ্য আলমারি ও বেশ কিছু চেয়ার রয়েছে।

পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে মরসুমি ফুলের গাছ লাগিয়ে বাংলোটি সাজানো হয়েছে।হলদিবাড়ি শহরের প্রবীণ নাগরিক সত্যরঞ্জন রক্ষিত বলেন, ‘হলদিবাড়ি শহরে এমন ঐতিহ্যবাহী ভবন আর নেই।তাই ডাকবাংলোটি হেরিটেজ ঘোষণা হলে শতবর্ষ প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষণ করা যাবে।’ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মৃণালকান্তি সরকার জানান, ‘বাংলোটির সঙ্গে কোচবিহারের ইতিহাস জড়িত।ভবনটি হেরিটেজ ঘোষণা করে এর নির্মাণশৈলী সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের।’ হেরিটেজ সোসাইটির হলদিবাড়ি শাখার সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র রায় বলেন, ‘রাজ আমলে নির্মিত ডাকবাংলোটি সংরক্ষণের জন্য আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কাছে চিঠি পাঠানো হবে।’

ছবি : মরসুমি ফুলে ডাকবাংলটি সাজানো হয়েছে।
তথ্য ও ছবি : অমিত কুমার রায়,হলদিবাড়ি।