ধরলায় নতুন সেতু তৈরি করতে জমির খোঁজ

মাথাভাঙ্গা : মাথাভাঙ্গা-শীতলকুচি সড়কের ধরলা নদীর উপর দুর্বল উপেন বর্মন সেতুর পাশে নতুন সেতু তৈরির উদ্যোগী হল পূর্ত দপ্তর। ইতিমধ্যে সেতু তৈরির জন্য জমির খোঁজ শুরু করেছে পূর্ত দপ্তর। জমি পেতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে।

মাথাভাঙ্গার সঙ্গে শীতলকুচি ব্লকের সড়কপথে যোগাযোগের অন্যতম করিডর উপেন বর্মন সেতু। সেতুতে প্রথম ত্রুটি ধরা পড়েছিল ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ। সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা মোবাইল ব্রিজ ইনস্পেকশন ইউনিটের (এমবিআইইউ) রিপোর্টে মাথাভাঙ্গা-শীতলকুচি সড়কে ধরলা নদীর উপর এই সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে দ্বিতীয়বার সেতুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারের রিপোর্টেও সেতুটির একটি পিলার ও একটি গার্ডারে ত্রুটি ধরা পড়ে। তারপর থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেতুটির দুধারে দুর্বল সেতুর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং ২০ টনের বেশি ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সেতুটির দুধারে হাইট রেস্ট্রিকশন বার না লাগানোয় ২০ টনের অনেকগুণ ভারী পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্রেলার সতর্কতাকে উপেক্ষা করেই চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -

সেতুর পিলার ও গার্ডারে ত্রুটি ধরা পড়ায় বর্তমান সেতুটির পাশে অনুরূপ একটি সেতু তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করেছে পূর্ত দপ্তর। পূর্ত বিভাগের কোচবিহারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নিমাইচন্দ্র পাল বলেন, উপেন বর্মন সেতুর একটি পিলার ও একটি গার্ডার দুর্বল হয়ে পড়ায় সেতুটির পাশে বিকল্প একটি সেতু তৈরির জন্য জমির খোঁজ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এসে পৌঁছেছে। খুব শীঘ্রই সেতু তৈরির জন্য বর্তমান সেতুর পাশে সরকারি জমি পাওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাছে আবেদন জানানো হবে। যদি বর্তমান সেতুর পাশে জমি পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে সেখানে নতুন সেতু তৈরি হবে। তিনি জানান, জমি পাওয়া গেলে বর্তমান সেতুটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে পূর্ত দপ্তর। আর জমি না পাওয়া গেলে নদীতে ডাইভারশন তৈরি করে বর্তমান দুর্বল সেতুটি সংস্কার করা হবে।

সেতুটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে সেতুটির উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করার প্রসঙ্গে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, লকডাউন উঠে গেলেই সেতুটির দুধারে হাইট রেস্ট্রিকশন বার তৈরি করে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হবে। ১৯৯৬ সালের ১০ মার্চ এই উপেন বর্মন সেতুর শিলান্যাস করেছিলেন তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী। ২০০১ সালের ১৪ জুলাই সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তৈরির পর দুদশক না পেরোতেই সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়ায় সেটির নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।