জল বাড়লেও মাছের দেখা নেই মহানন্দায়

362

শিলিগুড়ি : বর্ষার মরশুম শুরু হতেই ফুলেফেঁপে উঠেছে মহানন্দা নদী। নদীর জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে মাছের সন্ধানে জাল নিযে হাজির হচ্ছেন। কেউ শখ মেটানোর জন্য, আবার কেউ বাড়তি লাভের আশায় এই কাজ করছেন। মহানন্দা নদীর দুইধারের এলাকায় বসবাসকারী উমর আলি, ভগবান সাহানিরা  নিয়ম করে সকাল থেকেই মাছের আশায় নদীতে জাল ফেলেন। কিন্তু দিনের শেষে হতাশ হযে বাড়ি ফিরতে হয়। তাঁরা জানালেন, বর্ষায় নদী ফুলেফেঁপে উঠলেও আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। এজন্য অবশ্য নদীদূষণকেই দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের আশঙ্কা, এখনও এবিষযে সচেতন না হলে দূষণের জেরে ভবিষ্যতে হয়তো নদীর জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র‌্য পুরোপুরিই ধ্বংস হযে যাবে।

বর্ষার মরশুম আসতেই মহানন্দা নদীতে জল বেড়েছে। আর তাই বর্ষা আসতেই মাছ ধরার শখ মেটাতে জাল নিযে নদীর ধারে হাজির হন উমর আলি। নৌকাঘাটের বাসিন্দা উমরের কথায়, বর্ষা আসতেই বাবাকে দেখেছি জাল দিয়ে নদীতে গিযে মাছ ধরতে। তাঁর কাছেই আমার মাছ ধরা শেখা। ধীরে ধীরে তা শখে পরিণত হয়েছে। তাই বয়স ষাট বছর পেরোতে চললেও সময় পেলেই জাল নিযে নদীতে হাজির হই। উমরের কাছে নিছক শখ হলেও ভগবান সাহানির কাছে এই মাছ ধরা সারা বছরের দেনা মেটানোর মাধ্যম। দুর্গানগরের এই বাসিন্দা মাছ ধরার জাল বানাতে বানাতেই বললেন, দিনমজুরের কাজ করে কোনোভাবে সারা বছর সংসার চালাই। ধারদেনা হযে যায়। বর্ষার সময়ে রোজ নদী থেকে মাছ ধরে ঝংকার মোড়ের বাজারে বিক্রি করি। যা আয় হয় তা দিয়ে ধার মেটানোর চেষ্টা করি। যদিও মহানন্দায় এখন আর সেভাবে মাছ পাওযা যায় না। রাম জানে বস্তির বাসিন্দা বছর সত্তরের অজয় শর্মা বলেন, একসময়ে বর্ষার মরশুম আসতেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নদীতে পাওয়া যেত। আগে প্রতিদিন দেড় কিলো, দুই কিলো মাছ ধরতাম। তবে এখন সেরকম মাছ পাওয়া যায় না। এখন পাঁচশো গ্রাম মাছ ধরাটাই বড়ো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -

হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, দূষণের জেরেই নদীর এই অবস্থা। শুধু মহানন্দাই নয়, শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন নদীতে একসময় সারা বছর মাছ পাওযা যেত। বর্ষায় আরও মাছ মিলত। কিন্তু একটা প্রজন্মেই সব শেষ হযে গেল। খাটাল, অবৈধ দখলদারি, অসচেতনতার জেরে রাজ্য দূষণ পর্ষদের সমীক্ষায় দূষিত নদীগুলির মধ্যে মহানন্দা নদী নিজের জায়গা করে নিয়েছে। নদীর জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র‌্য ধ্বংস হতে চলেছে। আমরা এখনই এব্যাপারে সচেতন না হলে হয়তো আগামী কযেবছরের মধ্যে মহানন্দায় মাছ পাওয়া গল্পকথা হয়ে দাঁড়াবে। পুরনিগমের পরিবেশ বিভাগের মেয়র পারিষদ মুকুল সেনগুপ্ত বলেন, নদীপথের দুইধারে বড়ো কোনো কারখানা নেই। খাটাল, দখলদারি রুখতে আমরা সবসময়ই তৎপর। সাধারণ মানুষকেও এবিষয়ে সচেতন হতে হবে।