মেডিকেলে দখল আবাসন, জড়িত কর্মী থেকে বহিরাগতরাও

81

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আবাসন অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তিন সহকারী সুপার সহ অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, তিনজন সহকারী সুপার মেডিকেল অফিসারদের আবাসনে বেশ কিছুদিন ধরে বসবাস করলেও তাঁদের নামে ওই আবাসন বরাদ্দ করা নেই। এমনকি তাঁদের হাউস রেন্টও কাটা হয় না। এমনই আরও একাধিক আবাসন যাঁরা দখল করে রেখেছেন, তাঁদের কেউই মেডিকেলে কর্মরত নন। আবার কেউ কোয়ার্টার পেয়ে ভাড়ায় খাটাচ্ছেন। অভিযোগ, বছরের পর বছর এই আবাসনগুলি দখল হয়ে থাকলেও প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই।

মেডিকেলে বেআইনিভাবে বিভিন্ন কোয়ার্টার দখল করে রাখার অভিযোগ অনেকদিন ধরেই উঠছে। চতুথর্র্ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য তৈরি আবাসনের একাধিক ঘর এমন কয়েকজন দখল করে রেখেছেন যাঁদের কেউই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কাজই করেন না। তাঁদের পরিবারের কর্তা হয়তো একসময় মেডিকেলে কাজ করতেন। তিনি অবসর নেওয়ার পর বা মারা যাওয়ার পর পরিবারটি ওই আবাসন আর ছাড়েনি।

- Advertisement -

শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদেরও অনেকেই একাধিক কোয়ার্টার দখল করে রেখেছেন। কলকাতার বহু চিকিৎসক সপ্তাহে তিনদিন করে এখানে ডিউটি করেন। বাকি চারদিন কলকাতায় থাকেন। এমন একাধিক চিকিৎসক মিলেও একটি কোয়ার্টার দখল করে রেখেছেন। যার কোনও হাউস রেন্ট দেওয়া তো দূরের কথা, হাসপাতাল কর্তপক্ষের কাছে সেসবের কোনও হিসাবই নেই। আবার একাধিক কোয়ার্টার ভাড়ায় খাটছে। হয়তো কেউ শিলিগুড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি মেডিকেলে একটি কোয়ার্টার পেয়েছেন। সেটি তিনি কোনও চিকিৎসককে ভাড়ায় দিয়ে দিয়েছেন। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে।

মেডিকেলের আবাসিক চিকিৎসক, নার্সদের একাংশ এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মেডিকেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। রাতে ডিউটি করে আবাসনে ফেরার সময় আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যেতে  হয়। আমরা বারবার এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তাঁদের অভিযোগ, কোন আবাসনে কে থাকছেন, তিনি কোথা থেকে আসছেন, কোথায় যাচ্ছেন, আবাসিকদের আত্মীয়ের নামে কে বা কারা এসে আবাসনে থাকছেন- পুরো বিষয়টিই কারও কোনও নজরদারিতে থাকছে না। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এত অনিয়মের পরেও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ চুপচাপ বসে রয়েছে কেন? মেডিকেল সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, আবাসনগুলির বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজখবর করছি।