শিলিগুড়ি, ১৬ মার্চঃ দেড় কোটি টাকা খরচ করে বিধান রোডের ফুটপাথ সৌন্দর্যায়নের কাজ করছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। যদিও প্রশ্ন উঠেছে, যে ফুটপাথ পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গিয়েছে, এত টাকা খরচ করে সেই ফুটপাথ নতুনভাবে কেন তৈরি করা হচ্ছে? তবে কী ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় আরও সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই কাজ করা হচ্ছে? এই প্রশ্নের কোনো জবাব মেলেনি। তবে বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাপি সাহা বলেন, এটা ঠিকই যে বিধান রোডের ফুটপাথ পুরোটাই ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। এই ফুটপাথ নতুনভাবে সাজিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হবে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের পূর্ত বিভাগের মেয়র পারিষদ মুন্সী নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা এই কাজ করছি না। আমাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে এই কাজ করা হচ্ছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গন সংলগ্ন গোষ্ঠ পালের মূর্তির সামনে থেকে শুরু করে পানিট্যাঙ্কি মোড় পর্যন্ত বিধান রোডের দুপাশেই ফুটপাথ দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার দুপাশে থাকা বড়ো দোকানগুলি বহু মালপত্র ওই ফুটপাথে সাজিয়ে রাখে। আবার ফুটপাথজুড়ে সিংহভাগ জায়গাতেই চায়ের দোকান, পানের গুমটি গজিয়ে উঠেছে। এরই সঙ্গে রয়েছে ফল, লটারি বিক্রেতা থেকে শুরু করে আরও বহু ছোটো ছোটো গুমটিও। বিধান রোডের ফুটপাথের সামান্য অংশও সাধারণ মানুষ হাঁটাচলার জন্য ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে মূল রাস্তায় যানবাহনের মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

দীর্ঘদিন থেকেই বিধান রোডের ফুটপাথ দখলমুক্ত করে পথচারীর চলাচলের উপযুক্ত করার দাবি উঠছে। যদিও তা নিয়ে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ করেনি পুরনিগম। কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি স্থানীয় কাউন্সিলারও। অথচ এই ফুটপাথ সংস্কারের জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচ করছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রক। নিকাশি ব্যবস্থা নতুন করে তৈরির পাশাপাশি গোটা ফুটপাথ পেভার্স ব্লকে মুড়ে দেওয়া হবে। এই কাজের জন্য বিধান রোড জুড়ে বালি-পাথর ফেলে রাস্তার একটা বড়ো অংশই দখল করে রাখা হয়েছে। তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিধান রোডে দাঁড়িয়ে কয়েকজন পথচারী জানালেন, অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি রাস্তায় এভাবে বালি-পাথর ফেলে অনেকটা জায়গাই আটকে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় বালি-পাথরে পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এই প্রকল্প প্রসঙ্গে পুরনিগমের পূর্ত বিভাগের মেয়র পারিষদ বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই শহরে এসব কাজ করছে। আমাদের ওরা জানালে আমরা প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়নের প্রস্তাব দিতে পারি। আমাদেরও তো ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে। কিন্তু নিয়ম থাকলেও পুরনিগমকে কিছু জানানো হচ্ছে না। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নান্টু পাল বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের দখল থেকে ফুটপাথ মুক্ত করব। তিনি জানিয়েছেন, এই কাজে দেড় কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে।