আলিপুরদুয়ার শহরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

345

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট থেকে মাঝারি এক বা একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, চা, মিষ্টি তৈরি ও ফাস্ট ফুডের স্থায়ী দোকানগুলিতে অগ্নিনির্বাপণের ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। ১৭ ফেব্রুয়ারি জংশন এলাকায় চারটি দোকান ও প্রভাত সংঘ এলাকায় একটি বাড়ি আগুনে ভস্মীভূত হয়। এর আগেও আলিপুরদুয়ার শহরে বিভিন্ন সময়ে আগুন লেগেছে। তবু প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে কেন দোকানদাররা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন না, তা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলও ক্ষুব্ধ। তাছাড়া, আলিপুরদুয়ারে জলাশয়ের উৎসও সীমিত। নদীর জলই একমাত্র ভরসা। বেশির ভাগ পুকুর সংস্কারের অভাবে মজে বা ভরাট হযে যাচ্ছে। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় হোটেল, রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা হিসেবে ফায়ার ফাইটিং, ওয়াটার রিজার্ভার, হাইড্র্যান্ট এবং ইন্টারনাল পাইপলাইন, পাম্প, ফায়ার অ্যালার্ম সহ আরও বেশ কিছু নির্দেশ মেনে চলতে হয়। তাছাড়া, এই ধরনের যে কোনও দোকানের জন্য অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রাখা বাধ্যতামূলক।কিন্তু, শহরের বেশিরভাগ দোকানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা হিসেবে শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করা হয়। এগুলি দিয়ে ছোটোখাটো আগুন নেভানো সম্ভব। বড়ো আগুন লাগলে এগুলি কাজে আসবে না।

তবে বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা করা হলেও ছোট বা মাঝারি অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, বেশিরভাগ দোকান কাঠ, টিনের তৈরি হওয়ায় দাহ্য বস্তুর উপাদান  আলিপুরদুয়ারের বড় বাজার, আলিপুরদুয়ার সুপার মার্কেট ও রেলওয়ে জংশন বাজার এলাকার ঘিঞ্জি পরিবেশেও অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, আলিপুরদুয়ার বড় বাজার এলাকায় একটি জলাশয়কে ঘিরে একাধিক কাঠের দোকান গড়ে ওঠায় ঘিঞ্জি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জলাশয়টি প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ও আবর্জনায় পূর্ণ। ফলে সেখানেও যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সুপার মার্কেট এলাকায় দুটি ব্যাংক ছাড়া কোথাও অগ্নিনির্বাপণের তেমন ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার টাউন ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, আমরা সমস্ত ব্যবসায়ীকে অগ্নিনির্বাপণের বিষয়ে জানিয়েছি। যাঁরা এখনও পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা নেননি তাঁদের অবিলম্বে বিষয়টি ফের জানাব। শহরবাসীর নিরাপত্তার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।

- Advertisement -

কৃষ্ণ দে নামে একজন হোটেল ব্যবসায়ী জানান, তাঁর দোকানে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই সব হয়ে যাওয়ার কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থায়ী চা, মিষ্টি তৈরির দোকানের মালিক জানান, আলিপুরদুয়ার ফায়ার ডিভিশন অফিসের পরিদর্শকরা দোকানে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। শীঘ্রই সেই ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনিও। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার উত্তমকুমার খাওয়াস জানান, প্রতি মাসে ফায়ার স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ছাড়াও বিভিন্ন দোকান, এমনকি স্কুলেও তাঁদের পরিদর্শক অফিসাররা যান। তাঁরা সেইসব জায়গা পরিদর্শনের পর পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা  গড়ে তোলার জন্য নোটিশ দেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।