উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে হোম সেন্টারে কলেজের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

333

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : রাজ্যে একমাত্র উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতে হোম সেন্টারে পরীক্ষা হওয়ায় গণ টোকাটুকি আটকানো কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন ইসলামপুর কলেজের শিক্ষকদের একাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের পরীক্ষা হোম সেন্টার থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উত্তরকন্যার বৈঠকে হোম সেন্টার থেকে পরীক্ষা সরানো নিয়ে প্রস্তাব উঠেছিল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ এই বিষয়টি স্বীকার করেনি। তবে ইসলামপুর কলেজ কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীর বৈঠকে একটি মহল থেকে এই প্রস্তাব উঠে এসেছিল বলে স্বীকার করেছে। হোম সেন্টারে পরীক্ষা না হলে নকল রোখা যে সহজ হয় এই কথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় হোম সেন্টারে পরীক্ষা নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কন্ট্রোলার অব এগজামিনেশন (পরীক্ষা নিয়ামক) জানিয়েছেন।

ইসলামপুর কলেজে ১২ হাজারের বেশি পড়ুয়ার চাপে পড়ে এখানে পরীক্ষার নামে প্রহসন চলে। তা নিয়ে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরও ওয়াকিবহাল। ইসলামপুর কলেজের টিচার ইন চার্জ কাজলরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে হোম সেন্টার থেকে পরীক্ষা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি প্রস্তাব উঠে এসেছিল। তবে এ নিয়ে কোনও নির্দেশ আমাদের কাছে এখনও আসেনি। তিনি বলেন,অতিরিক্ত পড়ুয়া ভর্তি নিয়ে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে এরমাঝেও গণ টোকাটুকি রুখতে আমাদের প্রচেষ্টার খামতি নেই।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দিলীপকুমার সরকার বলেন, মন্ত্রীর বৈঠকে হোম সেন্টার বদলের বিষয়ে কোনও প্রস্তাব এসেছিল বলে আমার জানা নেই। তবে ইসলামপুর কলেজের টিআইসি কলেজের বিস্তারিত রিপোর্ট তাঁকে দিয়েছেন। এমনকি বিপুল পরিমাণ ছাত্র ভর্তি এবং কলেজ যে সুস্থিরভাবে চলছে না সেটাও তিনি মন্ত্রীকে জানিয়েছেন। রাজ্যে একমাত্র উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের সমস্ত কলেজে হোম সেন্টারে পরীক্ষা হয় কেন জানতে চাইলে দিলীপবাবু বলেন, এই বিষয়ে আমার বিশেষ জানা নেই। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ামকের সঙ্গে কথা বলে নিলে ভালো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ামক ডঃ দেবাশিস দত্ত বলেন, ইসলামপুর কলেজ নিজেদের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে ছাত্র ভর্তি করে কেন? আনলিমিটেড ভর্তি করে নকল সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা ওরা বলছে। কিন্তু সমস্যা তৈরি করে বললে তো হবে না। ছাত্র ভর্তি নিয়ন্ত্রিত থাকা উচিত। তিনি বলেন, আশপাশে তো আরও কলেজ রয়েছে। আসলে কলেজ কর্তপক্ষের উদাসীনতা জটিলতা তৈরির অন্যতম কারণ। মন্ত্রীর বৈঠকে পরীক্ষার হোম সেন্টার পরিবর্তনের বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। উত্তরবঙ্গে হোম সেন্টার পরিবর্তন করতে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে পাহাড়ের পড়ুয়াদের জন্য বড় সমস্যা। তাছাড়া কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের যোগাযোগ ব্যবস্থাও তো ভালো নয়। তবে দেবাশিসবাবু স্বীকার করেন, পরীক্ষা হোম সেন্টারে না হওয়া অবশ্যই ভালো। কারণ পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। নকল ও গণ টোকাটুকি নিয়ন্ত্রণে থাকে। রাজ্যের অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে হোম সেন্টারে পরীক্ষা হয় না। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমাদের উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা য়াযায়নি।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ইসলামপুর কলেজ ক্ষমতার বাইরে কীসের চাপে বা কাদের চাপে হাজার হাজার পড়ুয়াকে ভর্তি করছে? এই প্রসঙ্গে কলেজের টিআইসি কাজলবাবু বলেন, আসলে এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট কোনও গাইডলাইন নেই। তাছাড়া বলতে বাধা নেই যে, স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের চাপের মুখে আমাদের অতিরিক্ত পড়ুয়াকে ভর্তি নিতে হয়। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষ অতিরিক্ত পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া বন্ধ করে দিলেই সমস্যা মিটে যাবে। ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষ কড়া অবস্থান নিলে কলেজে পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ,তবে ইসলামপুরে আরও একটি কলেজ না হলে সমস্যা মিটবে না।