সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন

273

রণজিৎ ঘোষ : আলুর দাম আকাশছোঁয়া। অথচ দাম নিয়ন্ত্রণে কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই প্রশাসনের। শুধু আলু কেন, বাজারে প্রায় সমস্ত সবজির দামও সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ আলু সহ সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের তরফে টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছিল। দুদিন শহরের কয়েকটি বাজারে অভিযানও চালিয়েছিল টাস্ক ফোর্স। তারপর থেকে আর ওই টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের কোনও বাজারে দেখতে পাওয়া যায়নি। ফলে ফের সবজির দাম একপ্রস্থ বাড়তে শুরু করেছে। যদিও অভিযানে না যাওয়ার জন্য সাফাই দিয়েছেন টাস্ক ফোর্সের সদস্য তথা শিলিগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজারের সচিব অনিলকুমার শর্মা। তিনি বলেন, আমরা পাইকারি এবং খুচরো বাজারে খুব বেশি দামের ফারাক পাইনি। দুতিন টাকা হেরফের। তাই আর অভিযানে যাওয়া হয়নি। বর্ষার জন্য আমদানি কমেছে। এজন্যই দাম বেশি থাকছে। তবে শিলিগুড়ি মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় ন্যায্যমূল্যে সরকারিভাবে আলু বিক্রি করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। যদিও শিলিগুড়ির কোনও ওয়ার্ডেই সরকারি উদ্যোগে কম দামে আলু বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

আনলক পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই শিলিগুড়ি শহরে আলু এবং বিভিন্ন সবজির আগুন দাম। মাসদুয়েক আগেও যে আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে সেই আলুর দামই বাড়তে বাড়তে এখন ৪০ টাকায় ঠেকেছে। খুচরো বিক্রেতাদের বক্তব্য, পাইকারি বাজার থেকে যে দামে আলু কিনতে হচ্ছে তাতে ৪০ টাকায় বিক্রি করেও ক্ষতি হচ্ছে। আলুর দাম আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৪৫ টাকা কেজি হয়ে গেলেও কারও কিছু করার থাকবে না বলে জানিয়েছেন অনেক খুচরো ব্যবসায়ী। আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার জন্য চলতি মাসের শুরুর দিকে নিয়ন্ত্রিত বাজার, সুপার মার্কেট সহ কয়েকটি বাজারে দুদিন অভিযান চালায় টাস্ক ফোর্স। সেই সময় আলুর দাম ছিল কেজি প্রতি ৩৫ টাকা। কিন্তু সেই অভিযানের পরে আলুর দাম কেজি প্রতি ৪০ টাকা হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ঝিঙে, মুলো, বেগুন, পটল ৮০ টাকা কেজি হয়ে গিয়েছে। বিট, গাজর ১২০ টাকা, পেঁপে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা লংকার দাম ১৫০ টাকা কেজি। পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হায়দরপাড়া বাজার, সুভাষপল্লি বাজার, ফুলেশ্বরী বাজার এবং টাউন স্টেশন বাজারের খুচরো বিক্রেতাদের বক্তব্য, এভাবে বৃষ্টি চললে দু-এক দিনের মধ্যে আলু সহ সমস্ত সবজির দামই আরও বাড়বে। কারণ পাইকারি বাজারে সেভাবে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।

- Advertisement -

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, টাস্ক ফোর্স কেন দুদিনের লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে চুপ করে গেল? টাস্ক ফোর্সের অভিযানের পর যে সবজির দাম আরও বেড়েছে তা তো কারও অজানা নয়। তাহলে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে কেন জেলা প্রশাসন দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? দার্জিলিংয়ের জেলা শাসক এস পন্নমবলম জানিয়েছেন, শিলিগুড়ি মহকুমায় তিনটি জায়গা থেকে সরকারি উদ্যোগে ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই জায়গাগুলি হল শিলিগুড়ি কলেজপাড়া, নিয়ন্ত্রিত বাজার এবং মাটিগাড়ার শিবমন্দির। কিন্তু শিলিগুড়ির কলেজপাড়ায় শুক্রবার পর্যন্ত এই আলু বিক্রির স্টল দেখা যায়নি। স্টল দেখেননি শিবমন্দিরের বাসিন্দারাও।