ভোটের সময় বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন আদালতে

61

কলকাতা: বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআর খারিজের আবেদন সংক্রান্ত মামলায় বিনয় মিশ্রের হয়ে মাঠে নামলেন প্রখ্যাত আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি। রাজ্যে ভোটের সময় সিবিআইয়ের এই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানিতে তিনি জোর দিয়েছেন, গোরু পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত এনামুল হকের কর্মচারি মনোজ সানা নামে এক ব্যক্তি কোনও এক দম্পতিকে ৬ কোটির বেশি টাকা দিয়েছিলেন বলে তার ডায়েরিতে উল্লেখ করেছেন। এই লেনদেনে বিনয় মিশ্রের নাম কোথাও উল্লেখ নেই। পাশাপাশি এই লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল চার-পাঁচ বছর আগে। সেই ঘটনায় এতদিন পরে সিবিআই বিনয় মিশ্রের নামে এফআইআর করছে কেন? দিল্লি পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্টের আইনের ৬ ধারা অনুয়ায়ী কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের এক্তিয়ারে এসে তদন্ত করতে পারে। কিন্তু তারজন্য রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু রাজ্য সরকার এই সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। তাহলে রাজ্যের অনুমতি ছাড়া সিবিআই তদন্ত করবে কিভাবে?

এরই সঙ্গে তিনি আর একটি বিষয় উল্লেখ করে জানান, এই ধরনের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট অনুপ মাজি ওরফে লালাকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছে। তাকে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। বিনয় মিশ্রের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ দেওয়া হোক। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে তৈরি। কিন্তু সিবিআইয়ের তরফে এডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ওয়াই জে দস্তুর জানান, বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র দু’একটা বিষয়ে আলোকপাত করলেই হবে! পাশাপাশি রাজ্য তদন্তের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া যে বন্ধ করে দিয়েছে সেই বিজ্ঞপ্তি কোথায়? আগামী বৃহস্পতিবার সিবিআইয়ের তরফে তাঁদের বক্তব্য পেশ করা হবে।

- Advertisement -

এদিকে বিনয় মিশ্রকে গ্রেপ্তার করতে মরিয়া সিবিআই। হদিস না পেয়ে তার বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিবিআই। পাশাপাশি কয়লা পাচার কাণ্ডে তাঁর ভাই বিকাশ মিশ্রকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়েকদিন আগে বাঁকুড়া থানার আইসি অশোক মিশ্রও কয়লা পাচার কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইডি’র হাতে। সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিনয় মিশ্র।