গৌরহরি দাস, কোচবিহার, ১৫ জুলাই : কখনও চেয়ার বসাতে শক্ত ভিত তৈরি করে পরে তা উপড়ে ফেলা। কখনও প্লাস্টিকের বড়ো বড়ো ডাস্টবিন বসিয়ে পরে সেগুলি সরিয়ে নতুন ডাস্টবিনের বন্দোবস্ত করা। কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর বিরুদ্ধে এভাবেই অপরিকল্পিতভাবে কাজ করে সরকারি টাকা নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে কোচবিহারের বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অভিযোগ, কোন যুক্তিতে একটি কাজ করে পরে সেটি বাতিল করে অন্য কাজ করা হচ্ছে তা কোনোমতেই বোধগম্য নয়।

রাজবাড়ি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ টাকা এভাবে খরচের প্রতিবাদ জানিয়ে কোচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট শীঘ্রই আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে। কোচবিহার রাজবাড়ির দায়িত্বে থাকা এএসআই-এর আধিকারিক ডঃ সুনীলকুমার ঝা বলেন, আমাদের আধিকারিক পঙ্কজ দাস এই বিষয়টির দেখভালের দাযিত্বে রয়েছেন। আমি রাজবাড়ির জাদুঘরের দাযিত্বে রয়েছি। তবে যা হয়েছে সে বিষয়ে কলকাতায় উপরমহলকে জানাব। এর আগে পঙ্কজবাবুর বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে রাজবাড়ির পুরানো লোহার মালপত্র বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যা নিয়ে কোচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট লাগাতার আন্দোলন করে। রবিবার পঙ্কজবাবুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কেটে দেন। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি।

মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের মৃত্যুর পর বেশ কয়েক বছর ধরে কোচবিহার রাজবাড়ি অনাদরে পড়ে ছিল। তারপর এএসআই রাজবাড়ি সংস্কারের দায়িত্ব নেয়। বর্তমানে এই রাজবাড়ি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। রাজবাড়ির সামনে দুপাশে বিশাল সুদৃশ্য বাগান রয়েছে। মাস তিনেক আগে পর্যটকদের বসার সুবিধার জন্য এএসআই বাগানের বিভিন্ন প্রান্তে সোফার মতো একাধিক লোহার চেয়ার বসায়। ইট দিয়ে শক্ত ভিত তৈরি করে ওই চেয়ারগুলি বসানো হয়। ওই চেয়ারগুলির পাশে প্লাস্টিকের বড়ো বড়ো ডাস্টবিনও বসানো হয়। কিন্তু ১৫-২০ দিন আগে কর্তৃপক্ষ চেয়ারগুলির নীচের ভিত উপড়ে ফেলা শুরু করে। শোনা যাচ্ছে টাইলস বসিয়ে নতুনভাবে ভিত তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, প্লাস্টিকের ডাস্টবিনগুলি সরিয়ে সেখানে বাঁশের তৈরি ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, সুদৃশ্য টাইলসের ভিতই যদি করা হবে, তবে কেন হাজার হাজার টাকা খরচ করে আগেরবার ভিত তৈরি করা হল? পাশাপাশি ডাস্টবিনের জন্যও দুবার খরচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সভাপতি কুমার জিতেন্দ্র নারায়ণ বলেন, এঘটনায় পরিষ্কার যে কোচবিহার রাজবাড়ির দায়িত্বে থাকা এএসআই-এর আধিকারিকদের দূরদর্শিতার যথেষ্টই অভাব রয়েছে। রাজবাড়ির জন্য যখন যেমন টাকা আসছে তা নিজেদের খরচের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় খরচ করা হচ্ছে। নইলে শক্তপোক্ত ভিত তৈরি করেও তা ভেঙে টাইলস কেন বসানো হচ্ছে? ডাস্টবিনই বা দুবার করে কেন বসাতে হচ্ছে? জিতেন্দ্রবাবুর স্পষ্ট বক্তব্য, রাজবাড়ি নিয়ে এধরনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত আমরা কিছুতেই মেনে নেব না। শীঘ্রই এনিয়ে আমরা আন্দোলনে নামব। কোচবিহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি রাজু রায় বলেন, যে আধিকারিকরা একাজ করছেন তাঁদের আরও দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।