বিনয়ে দেশে ফেরা নিয়ে ফের শঙ্কার আবহ

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : ফের বিনয়কুমার সরকারের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হল। মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট মিলবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। তবে তিনি আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পরিবার। শনিবার ফোন মারফত বিনয়বাবু বলেন, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। তারপর দেশে ফিরতে পারব কিনা তা জানতে পারব। জাপানে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে দেওয়া দেশে ফেরানোর ফর্ম পূরণ করেছি। আশ্বাস মিলেছে দ্রুত দেশে ফেরানোর। কিন্তু জানি না কবে দেশে ফিরতে পারব। তবে জাহাজের অধিকাংশ যাত্রী ও অন্য দেশের কর্মীরা বাড়ি চলে গিয়েছেন। আমরা এখনও অসহায়ে মতো অপেক্ষা করছি। মাঝেমধ্যে হতাশ হয়ে পড়ছি। তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জাপানের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছে। রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বিনয়ের ব্যাপারে বিদেশমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাহাজে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে তৎপর ভারত সরকার।

এদিকে, জাপান উপকূলে আটকে থাকা ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই যাত্রীর মৃত্যুর খবরে ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ওই জাহাজে থাকা ভারতীয় এক ক্রু জানিয়েছেন, জাপানের একটি হাসপাতালে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই জাহাজের কর্মী বিনয় কুমারের দাবি, এদিন পর্যন্ত ওই জাহাজের ১৫০ জন যাত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার জাহাজের ক্যাপ্টেন এই রিপোর্ট ঘোষণা করেছেন। এই নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁল প্রায় ৬৩৫ জন। ফোনে বিনয়বাবু বলেন, মৃত্যুর খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনেকে। বাদ নেই আমিও। এতদিন মানসিকভাবে লড়াই করে যাচ্ছিলাম। এখন সেই শক্তি ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী রয়েছেন। দাদা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিশ অফিসার পদে কর্মরত। আমার চিন্তায় বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এদিন ফের জাপানে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। এদিন জাহাজের কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমাদের আরও ১৫ দিন জাহাজে রাখা হবে। ফলে জাপান থেকে ভারতে ফেরা আপাতত অনিশ্চিত।

জাপানের ইয়াকোহামা বন্দরে আটকে থাকা জাহাজের কর্মী বিনয়কে আরও ১৫ দিন জাহাজে থাকতে হবে। বিমানের টিকিট বাতিল করা হয়েছে। এদিকে ছেলের বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া ব্লকের কানকির বাড়িতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা চণ্ডীদেবী, বাবা ও স্ত্রী। দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, বিনয়ে দেশে ফেরার ব্যাপারে জাপানে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে কথা বলেছি। ভারতের তরফে যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া করা হয়েছে, বাকিটা নির্ভর করছে জাপান সরকারের ওপর। ওই জাহাজের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত জাহাজের ক্রু বিনয় নিজেকে উদ্ধারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে সাহায্যের আর্জি জানান জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে।

বিনয়ে আবেদনে সাড়া দিয়ে ভারত সরকার জাপান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিনয় সহ ওই জাহাজে আটক অন্য ভারতীয়দের উদ্ধারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাঁদের দেশে ফেরার বিমানের টিকিটও হয়ে য়ায়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিনয়ে পরিবার সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ থেকে কাউকে ছাড়া সম্ভব নয় বলে জাপান সরকার জানিয়ে দেয়। দিন কয়েক আগে বিনয়ের রক্ত পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস মেলেনি। বিনয় আপাতত সুস্থ। তবে করোনা ভাইরাসে আরও দুজনের মৃতুযর খবর চাউর হয়েছে। সেই খবর চাউর হতেই আতঙ্কে বিনয়ের ঘুম ছুটেছে।

১৯ ফেব্রুয়ারি জাহাজ থেকে ছুটি হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে জাপান সরকার জানিয়ে দেয়, ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ছাড়া হবে না। এই কারণে বিমানের টিকিট বাতিল করা হয়েছে। এদিন ফের বিনয়ে রক্ত পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হবে রবিবার। একথা জানান বিনয়ে স্ত্রী মৌসুমি সরকার বর্মন। মা চণ্ডীদেবী বলেন, ছেলে কেমন আছে বুঝতে পারছি না। শুনলাম এখন ফিরতে পারবে না। কবে ফিরবে জানি না। মৌসুমিদেবী বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে ফেরার কথা ছিল। করোনা ভাইরাসের জেরে পিছিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ছুটির সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুয়াযী বিমানের টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু ছুটি না মেলায় বিমানের টিকিট বাতিল করতে হয়। এদিন ফোন মারফত জানতে পারলাম ওর দেশে ফিরতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। ওর রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। রবিবার তার রিপোর্ট দিবে। রক্তের রিপোর্ট নিয়ে চিন্তিত রয়েছি আমরাও।