দলকে না জানিয়ে পরীক্ষা, বিজেপির রাজু সাহার সংক্রমণ ঘিরে প্রশ্ন

359

শিলিগুড়ি : বিজেপি নেতা রাজু সাহার করোনায় সংক্রামিত হওয়া এবং লালার নমুনা পরীক্ষার খবর চেপে যাওয়ার ঘটনায় দলের অন্দরেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হয়ে তিনি কেন রাজগঞ্জে লালার নমুনা পরীক্ষা করাতে গেলেন? দলের কাছে সবকিছু গোপন করে গেলেন কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বাবা-মা সহ পরিবারের অনেকেই সংক্রামিত হয়ে কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজুর সংক্রমণের পর বিজেপির শিলিগুড়ির প্রথমসারির বেশ কিছু নেতা নিজেদের গৃহবন্দি করে ফেলেছেন। দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়াল বলেন, ‘অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা চাই রাজু সহ সবাই সুস্থ হয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসুন। আমরা রাজু এবং তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছি।’

গত ১৮ জুন পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওযার্ডের বাসিন্দা বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক রাজু সাহার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তাঁকে ওই রাতে জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই তিনি কবে, কোথায় লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য দিয়েছিলেন তার খোঁজখবর শুরু হয। খবর পেযে হতবাক হয়ে যান বিজেপির শিলিগুড়ির সাংগঠনিক জেলার নেতারা। কেননা, দলের প্রথম সারির এই নেতা যে করোনা সন্দেহে লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য দিয়েছেন, তা অধিকাংশ নেতারই জানা ছিল না। রাজুবাবুর রিপোর্ট আসার আগের তিন-চারদিন অনেকেই তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন। দার্জিলিংযে সাংসদ রাজু বিস্ট, দলের রাজ্য সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায শিলিগুড়িতে আসায় তাঁদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজু উপস্থিত ছিলেন। ফলে বেশ কিছু নেতা-নেত্রী এবং অন্যরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন। সেদিনই দলের শিলিগুড়ির সাংগঠনিক সভাপতি জানিয়েছিলেন, রাজুবাবু যে লালার নমুনা দিয়েছেন। তাঁর যে করোনার উপসর্গ রয়েছে তা তাঁদের জানা ছিল না। তবে, লালার নমুনা জমা দেওয়ার ১০ দিন পরে তাঁর রিপোর্ট আসা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই বিজেপি নেতার সঙ্গে বিধান মার্কেটের ব্যবসাযীদের একটা বড় অংশের ওঠাবসা রয়েছে। তাঁর দাদার দোকান রয়েছে ওই মার্কেটে। ফলে এই বাজারের ব্যবসাযীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। পরবর্তীতে জানা যায়, জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিযে লালার নমুনা দিয়েছিলেন রাজুবাবু। ১৮ জুন রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাঁকে জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে নিয়ে গিযে ভর্তি করা হয়েছে। এই বিজেপি নেতার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পরে তাঁর পরিবারের আরও ১২ জনের লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ছয়টি নমুনা পরীক্ষায তাঁর বাবা-মা, দাদা,  বৌদি সহ পাঁচজনের শরীরেই করোনার সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শিলিগুড়ি শহরে থেকেও কেন রাজগঞ্জে লালার নমুনা দিতে গেলেন ওই বিজেপি নেতা? তিনি কি নিশ্চিত হযে গিয়েছিলেন যে তাঁর শরীরে করোনার ভাইরাস প্রবেশ করেছে? শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে বা লালার নমুনা দিলে প্রচার হযে যাবে ভেবেই কি তিনি চুপিচুপি রাজগঞ্জে গিযে লালা দিয়েছিলেন? কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজুবাবুর ফোন বন্ধ থাকায় এসব প্রশ্নের জবাব মেলেনি। কিন্তু দলের অন্দরে যেমন এই প্রশ্নগুলি ঘুরছে, তেমনই সাধারণ মানুষও বিজেপি নেতার এই কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রাজগঞ্জের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভদীপ সরকার বলেন, ‘যে কোনও ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখিয়ে করোনার উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য দিতেই পারেন। রাজগঞ্জেরও অনেক রোগী শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান।’

- Advertisement -