সরকারি গোডাউনের সামনে মদ কেনার লম্বা লাইন

রাজশ্রী প্রসাদ, পুরাতন মালদা : এই লকডাউনের সময়ে পুরাতন মালদার নারায়ণপুরে সরকারি সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন (বেভকো)-এর মদের গোডাউনের সামনে মদ কেনার জন্য গাড়ির লম্বা লাইন। গাড়ির সামনে আবগারির স্টিকার সাঁটা। চালকের হাতে আবগারি বিভাগের ইনডেন্ট আইডি, কনসাইন আইডি দেওয়া মদের তালিকা। সঙ্গে আছে লাইসেন্স হোল্ডারের অথরাইজেশন লেটার। এমন তালিকা নিয়ে মদ নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে একের পর এক গাড়ি। কোনও গাড়িতে আবার জরুরি খাদ্যদ্রব্য পরিবহণের স্টিকার সাঁটা। সেই গাড়িগুলিতেই মদ পৌঁছে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে। অন্তত গাড়ির চালকরা সে কথাই বলছেন। ডিলারদের নির্দেশেই তাঁরা বেভকো থেকে মদ নিতে এসেছেন বলে জানালেন।

তবে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই নিমেষে গাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে গেলেন। তাঁদের সঙ্গে আসা বেশ কিছু সন্দেহজনক চারচাকার বাহনও ভ্যানিশ হয়ে গেল মুহূর্তেই। এরপরই শুরু হল সাংবাদিকের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা। চোখের আড়াল হতেই ফের গাড়ির লাইন তৈরি হল গোডাউনের সামনে। ক্যামেরা নিয়ে হাজির হতেই ফের দৌড়ে পালালেন গাড়ির চালকরা। বহুক্ষণ অপেক্ষার এক গাড়ির চালকের নাগাল পাওয়া গেল। প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন, মালিকের নির্দেশে গোডাউন থেকে মদ নিতে এসেছেন। অপর এক গাড়ির চালক এমন ভান করলেন যেন মদ শব্দটি প্রথম শুনছেন। প্রশ্ন করতেই জানালেন, তিনি গাড়িতে গণবন্টন দপ্তরের খাদ্যদ্রব্য পরিবহণের কাজ করেন। যদিও গাড়ির সামনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরের স্টিকার সাঁটা কেন সেই প্রশ্নের জবাব না দিতে পেরে পালিয়ে গেলেন।

- Advertisement -

এভাবে একটি সরকারি দপ্তরের স্টিকার গাড়িতে সেঁটে রাস্তায় চলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ জেনেও কীভাবে তা হচ্ছে, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বেভকোর কর্মী ও আধিকারিকরাও সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখে ভেতরে সেঁধিয়ে গেলেন। লকডাউনের সময় মদের কারবার কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যাঁরা মদ নিতে এসেছিলেন, তাঁরা বলছেন সরকারি অনুমতি আছে বলেই মদ নিতে এসেছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে মালদা জেলা আবগারি দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছিল। আবগারি দপ্তরের সুপার সুরক্তিম মুখোপাধ্যায় জানান, লকডাউনে মদ বিক্রির কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই। তাহলে বেভকোর সামনে আবগারির স্টিকার দেওয়া এবং ইনডেন্ট নম্বর দেওয়া কাগজ নিয়ে মদ নিতে এসেছিলেন কারা? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। খবর নিয়ে দেখবেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, লকডাউনে মদের কারবার বেআইনি। এমন ঘটনা ঘটলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। যদিও বুধবার বিকেলে গাড়িগুলি যখন বেভকোর সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন পুলিশের দুটি টহলদারি ভ্যান জাতীয় সড়ক দিয়ে চলে গেলেও সেদিকে নজর দেয়নি। আবগারির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক পালদেন শেরপাকে ঘটনার কথা জানালে তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে এত কিছুর পরও প্রশ্ন থাকছেই, জেলা আবগারি দপ্তর বা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এমন ঘটনা কীভাবে সম্ভব? এমন ঘটনা পুলিশেরই বা নজর এড়াচ্ছে কীভাবে?