কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ এখন ড্রাইভিং শেখার জায়গা

274

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ রক্ষা করতে দুমাস আগে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে পুরসভা, পুলিশ ও সদর মহকুমা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন করার পরেও সমস্যা রয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সেই সুযোগে কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই সরকারি জমির চারপাশ দখল হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। এখন খোলা মাঠে গাড়ি চালানো শিখছেন বহু মানুষ। আবার অনেকে মাঠটিকে শর্টকাট রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে হেঁটে বা গাড়ি চালিয়ে মাঠ পারাপার চলছে। ঐতিহ্যবাহী এই মাঠের অবস্থা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শহরে।

কোচবিহার জেলা শুধু নয়, গোটা রাজ্যেই পরিচিতি রয়েছে কোচবিহার শহরের রাসমেলা মাঠের। ঐতিহ্যবাহী এই মাঠেই প্রতি বছর আয়োজিত হয় শতাব্দীপ্রাচীন রাসমেলা। এছাড়াও বছরের অন্য সময় বড় সভা-সমাবেশ হয়। সব মিলিয়ে এখানে সাড়ে আট একর জমি রয়েছে। জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অধীনে রয়েছে এই মাঠ। এলাকায় গেলে দেখা যায়, এই মাঠের পাশে বিশাল বোর্ড লাগিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটি রাজ্য সরকারের জমি এবং তাতে অনধিকার প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটুকু করেই যেন দায় সেরেছে প্রশাসন। কিন্তু মাঠে কী হচ্ছে, তা দেখার জন্য নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা নেই।

- Advertisement -

এর আগেও অভিযোগ উঠেছে, এই মাঠের বিভিন্ন এলাকা দখল হচ্ছে। সেখানে একের পর এক দোকান গড়ে উঠেছে। এমনকি রাস্তা থেকে এখন আর সম্পূর্ণ মাঠ দেখাই যায় না। বেশ কিছুদিন ধরে আবার এই মাঠে গাড়ি চালানো শিখছেন কিছু বাসিন্দা। আবার শর্টকাট রাস্তা হিসেবে হেঁটে, এমনকি গাড়ি নিয়ে মাঠ পারাপার করছেন অনেকে। ইতিহাসবিদ ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, রাসমেলার মাঠ নিয়ে যা হচ্ছে, তা প্রশাসনিক দুর্বলতা। অবিলম্বে এই মাঠ রক্ষা করতে হবে। সকলের দাযিত্ব রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে এত কিছুর পরেও এই ঐতিহ্যবাহী মাঠ রক্ষা করার দাযিত্ব কার, সেই প্রশ্ন ওঠায় স্পষ্ট উত্তর দিচ্ছেন না প্রশাসনের আধিকারিকরা। দখলদারদের কেন সরানো হচ্ছে না, কেন মাঠের চারপাশ এভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, তা নিয়ে কেউই স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অতিরিক্ত জেলা শাসক সন্দীপ দত্ত বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পরেই প্রায় দুই মাস আগে পুরসভা, পুলিশ এবং সদর মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল, যাতে সেখানে কোনও দখল না হয়, কোনও অবৈধ পরিকাঠামো গড়ে না ওঠে। বিষয়টি ফের দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কোচবিহার পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, জেলার বাইরে রয়েছি। ফিরে এসে বিষয়টি দেখছি। কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক সব্যসাচী রায় বলেন, কিছুদিন আগেই আমি দায়িত্ব নিয়েছি। চিঠির বিষয়টি জানা নেই, দেখছি। জেলা পুলিশ সুপার কে কান্নন বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।