বিধানসভা ভোটে হারের জন্য দায়ী দলের অন্তর্ঘাত, তোপ রবির

278

তুফানগঞ্জ: বিধানসভা ভোটে নাটাবাড়ি কেন্দ্রে নিজের পরাজয়ের জন্য দলের অন্তর্ঘাতকে দায়ী করলেন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ফলে কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে চলে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। স্বাভাবিকভাবেই রবীন্দ্রনাথবাবুর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ তুফানগঞ্জ শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি হলে তৃণমূলের তরফে ভোট পর্যালোচনা বৈঠক করা হয়। সেখানে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, উপপ্রধান সহ দলের অন্য নেতাদের ডাকা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের দুই জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সরকার ও অনন্ত বর্মা, দলের তুফানগঞ্জ শহর ব্লক সহ সভাপতি চানমোহন সাহা, তুফানগঞ্জ ১ (বি) ব্লক সভাপতি প্রদীপ বসাক সহ অন্যরা। তবে বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ডাক পাননি তুফানগঞ্জ ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ছামিউল ইসলাম। ছামিউল একসময় রবি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের অনুগামী বলে পরিচিত।

- Advertisement -

বৈঠকে মহিলা, ছাত্র ও যুব সংগঠনকে চাঙ্গা করার নির্দেশ দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথবাবু। দশ বছরে যাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দল করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য এদিন দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে রবীন্দ্রনাথবাবুর অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব হয়ে উঠেছে চর্চার বিষয়।

রবীন্দ্রনাথবাবুর বৈঠক প্রসঙ্গে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় জানান, উনি দলের রাজ্য সহ সভাপতি। তাই রাজ্যের যেখানে খুশি দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করতেই পারেন। তবে তা দলের জেলা সভাপতিকে জানিয়ে করলে ভালো হয়। এদিনের বৈঠকের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন পার্থবাবু।

অন্যদিকে, এদিনের বৈঠক ঘিরে ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি ও রাজ্য সহ সভাপতির বিরোধ। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই জিরানপুর গ্রামে পার্থর বাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে সাজানো বলে কটাক্ষ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথবাবু। তা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল।