ধূপগুড়িতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রবীন্দ্রনাথ-সৌরভ

1137

ধূপগুড়ি: ধূপগুড়িতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। বুধবার সকালেই ঘটনাস্থলে আসেন তাঁরা। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখার পর রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। তবে মুখ্যমন্ত্রী সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রকল্প চালু করেছেন। চালকদের উচিত সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ মেনে গাড়ি চালানো।’ সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাটি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি রাজ্য সরকার দেখছে এবং মৃতদের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে।’

মঙ্গলবার রাতে ধূপগুড়ির জলঢাকা এলাকায় পাথর বোঝাই লরি চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। গুরুতর আহত হন আরও প্রায় ৭-৮ জন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ), ডেপুটি পুলিশ সুপার (অপরাধ), ধূপগুড়ি থানার আইসি ও র‍্যাফ ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃতদের মধ্যে চারজন শিশু, সাতজন মহিলা, দুজন পুরুষ রয়েছেন।

- Advertisement -

রাতেই ঘটনাস্থলে ও ধূপগুড়ি হাসপাতালে যান জলপাইগুড়ি রেঞ্জ ডিআইজি। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন। পরে বিএমওএইচ ডাঃ সুরজিৎ ঘোষ সহ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনায় বসেন। পুলিশের দাবি, মৃত এখনও পর্যন্ত ১৩। কিন্তু বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা ১৪ রয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন, ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত তিনটি গাড়িই ভুল পথে চলছিল। লরিটিই সঠিক পথেই চলছিল। মোট ১৩-১৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে।’ এদিকে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন রাজ্যের যুব কল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানীরহাটের দিক থেকে দুটি বরযাত্রী বোঝাই গাড়ি ধূপগুড়ির দিকে যাচ্ছিল। সেসময় একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি দুটির ওপর উলটে যায়। লরির নীচে চাপা পড়েন দুটি গাড়িতে থাকা বরযাত্রীরা। উদ্ধার কাজে দমকল, পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়রাও হাত লাগান। প্রায় তিন-চার ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কাজ চলেছে। বরযাত্রী বোঝাই গাড়িগুলির ওপর পাথর পড়ে থাকায় কাজে অনেকটাই অসুবিধা হয়।

ধূপগুড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি গাড়ি লালস্কুলের দিকে যাচ্ছিল। প্রথম গাড়িটি ধাক্কা লেগে সরে যায় এবং বাকি দুটি গাড়ি পাথর বোঝাই লরির নীচে পড়ে। ঘটনায় ওই গাড়ি দুটির যাত্রী ও চালকের মৃত্যু হয়েছে। অপর গাড়িটির কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।

এদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে যান বিধায়ক মিতালি রায় ও বিডিও শঙখদীপ দাস। অন্যদিকে, রাজ্যের যুব কল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস টেলিফোনে বিধায়ক মিতালি রায়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনার ওপর নজর রাখছেন। তিনি ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।