কুমারগ্রামে যাত্রীপ্রতীক্ষালয়ের বেহাল দশা

কুমারগ্রাম : কুমারগ্রাম এলাকার ৭-৮টি যাত্রীপ্রতীক্ষালয়ের বেহাল দশা। সেগুলির সংস্কারের দাবি তুলেছেন কুমারগ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াই দশক আগে তৈরি করা কুমারগ্রাম-জোড়াই রাজ্য সড়কের ধারে থাকা জরাজীর্ণ ওই যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলির অধিকাংশই আবর্জনায় ভরে থাকে। এছাড়া প্রতীক্ষালয়গুলির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়ছেন কুমারগ্রাম এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা। যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলিতে বসার জায়গা না পেয়ে অসুবিধায় পড়তে হয় শিশু এবং মহিলা যাত্রীদের। অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রতীক্ষালয়গুলি বেহাল হয়ে থাকলেও সেগুলির সংস্কারের ব্যাপারে কোনোরকম হেলদোল নেই স্থানীয় প্রশাসনের। বিষয়টি নিয়ে বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ জমেছে। যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলির দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা তনুময় দাস জানান, কুলকুলি হাটখোলা, ডাঙ্গি, নিউডাঙ্গি, দুর্গাবাড়ি, কুমারগ্রাম, এন্ডিবাড়ি, পাগলারহাট সহ বেশ কিছু এলাকার যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলি সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। পলেস্তারা খসে গিয়ে ইট বেরিয়ে পড়েছে। প্রতিটি প্রতীক্ষালয়ের টিনের চালে অসংখ্য ফুটো। বসার জায়গাও ভেঙে গিয়েছে। ফাটল ধরেছে পিলারগুলিতে। এর জেরে নিত্যযাত্রীরা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাসের অপেক্ষায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বেহাল যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলির দ্রুত সংস্কার প্রযোজন। কুমারগ্রামের আরেক বাসিন্দা বাপি রায় জানান, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে প্রায় ২৫ বছর আগে রাজ্য সড়কের পাশে তৈরি যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেঙে পড়েছে। সেগুলি আবর্জনায় ভরে থাকে। সাধারণ মানুষ যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলির ধারেকাছেও ঘেঁষেন না। বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, প্রতীক্ষালয়গুলি সাধারণ মানুষের কোনো উপকারেই আসছে না। সেগুলি বর্তমানে কুকুর, ছাগল, ভেড়ার নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। তাঁরা যাত্রীপ্রতীক্ষালয়গুলির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এদিকে, সন্ধ্যা নামতেই নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয়ে যায় প্রতীক্ষালয়গুলিতে। সেগুলিতে বসছে মদ, জুয়ার আসর। এর ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অথচ এসব নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও, স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন অভিযোগের ব্যাপারে কুমারগ্রাম থানার পুলিশ বিশেষ কিছুই বলতে চায়নি। তবে মদ, জুয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, বেহাল যাত্রীপ্রতীক্ষালয় প্রসঙ্গে কুমারগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তিমির দাস জানান, বাসিন্দাদের কেউই সমস্যার কথা লিখিতভাবে জানাননি। বিষয়টি প্রশাসনিক বৈঠকে উত্থাপন করে যাত্রীপ্রতীক্ষালয় মেরামতের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।