নব্বইতেও সকলের অনুপ্রেরণা মালবাজারের রাধুবাবু

318

মালবাজার: মাল শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কলোনি এলাকায় রাধারমন বসাকের বাড়ি। কলকাতার সিটি কলেজ থেকে স্নাতক। এরপর বি এড করেন। ১৯৫৬ সালে মাল আদর্শ বিদ্যাভবনে শিক্ষকতায় যোগদান। প্রথমের কয়েক বছর করণিক হিসেবেই কাজ করেছিলেন। তারপর শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর বছরের-পর-বছর পেরিয়েছে। তিনি কয়েক প্রজন্মের কাছে প্রিয় শিক্ষকের মর্যাদা পেয়ে এসেছেন। কিন্তু শহরবাসীদের কাছে তিনি যেন মিথ। এখনও প্রাক্তন পড়ুয়াদের কাছে তার পড়ানোর কৌশলের কথা মুখে মুখে ঘোরে। রাধুবাবুর অংক কষানোর কৌশল আজও সকলের মুখে মুখে ফেরে। বছরের পর বছর অংক কষিয়ে পরিস্থিতি এমনই হয়েছিল যে রাধুবাবুর চোখ বুজেই গোটা বইয়ের অংক লাইন বাই লাইন কষে দিতে পারতেন। এক সময় মাল শহরের জেরক্স এবং টাইপিং প্রশিক্ষনের পথ দেখিয়েছেন তিনিই। তার উদ্যোগে তৈরি টাইপিং কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই জীবন যুদ্ধে সফল হয়েছেন। সেখানেই থেমে থাকেনি রাধুবাবু।

১৯৯০ সালে শিক্ষক জীবন থেকে অবসর নেন। তারপর শুরু হয় আরও এক অধ্যায়। বিভিন্ন ধরনের সরকারি রেজিস্ট্রার, লেজার ইত্যাদি তৈরি কাজ শুরু করেন। সেই ব্যবসাতেও সফল তিনি।শিলিগুড়ি থেকে ডুয়ার্স তাকে একডাকে চেনেন অনেকেই। বাড়িতে স্ত্রী আছেন।এক ছেলে কর্মসূত্রে দিল্লীতে থাকেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন কাজে আজও সাইকেল চেপে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়ান। বয়সজনিত কারণে শরীরটা ঝুঁকলেও তার কর্মোদ্দীপনা সকলকে অনুপ্রেরণা যোগায়। রাধুবাবুর কথায়, কর্মই জীবন। থেমে থাকলে চলবে না। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। রাধুবাবুর জীবনিশক্তিতে অনুপ্রাণিত মালবাজারের কয়েক প্রজন্ম। পম্পা হল মোড়ের ঔষধ ব্যবসায়ী প্রভাত দাস বলেন, ‘উনি জীবন্ত বিস্ময়। নমস্য ব্যক্তি।’

- Advertisement -