মালেরঝাড়ের তোর্ষায় সক্রিয় বালি পাচারচক্র 

তুষার দেব, শুকটাবাড়ি : প্রতি বছর তোর্ষা নদীর জল কমে চড়া পড়লেই শুকটাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফাঁসিরঘাট সংলগ্ন মালেরঝাড় এলাকায় বালি পাচারচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তুলে তারা বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে। পরিচিত এই ছবিতে এবারও ব্যতিক্রম নেই। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় বালি পাচারচক্র তাদের কারবার শুরু করে দিয়েছে। আগামী বর্ষা পর্যন্ত এই কারবার চলবে।

কোচবিহার-মাথাভাঙ্গা রাজ্য সড়কের টাপুরহাট মোড় থেকে কলাবাড়িঘাটের রাস্তা ধরে এগোলেই মালেরঝাড় এলাকা। এই এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে তোর্ষা নদী। নদীর ওপারে কোচবিহার শহর। ফি বছর মালেরঝাড় এলাকায় তোর্ষা নদীকে টার্গেট করে থাকে বালি পাচারকারীরা। এখানে জনসমাগম খুব বেশি না হওয়ায় সুবিধা হয় তাদের। নদী থেকে বালি তুলে তারা অর্ডার অনুযাযী ট্র‌্যাক্টরে করে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সাধারণত এক ট্র‌্যাক্টর বালি চারশো টাকায় বিক্রি হয়। দূরত্ব অনুয়াযী বালির দাম বাড়ে। সরকারি নিয়মানুয়ায়ী কর দিয়ে এর সমপরিমাণ বালি কিনতে গেলে অনেক বেশি দাম পড়ে। যার দরুন বাড়িঘর তৈরি বা অন্য কাজের প্রয়োজনে পাচারচক্রের দ্বারস্থ হন বহু মানুষ।

- Advertisement -

মালেরঝাড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, তোর্ষা নদী থেকে বালি তোলা চলছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এলাকার কয়েকজন জানালেন, এখন ২-৩টি ট্র‌্যাক্টরে করে বালি তোলা চলছে। এই সংখ্যা বাড়বে। তখন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে কারবার। এর সঙ্গে এলাকার বড়ো মাথারা যুক্ত রয়েছে বলে তাঁদের দাবি। তবে কারা সেই বড়ো মাথা- সেই প্রশ্নে মুখে কুলুপ আঁটেন প্রত্যেকেই। এবিষয়ে মুখ খুললে ফল ভালো হবে না বলে ইঙ্গিত দিলেন তাঁরা। বছরের পর বছর এখানে পাচারচক্রের রমরমা চললেও, প্রশাসন নীরব কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে কোচবিহার-১ ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক প্রতিমা সুব্বা বলেন, বালি পাচার রুখতে ইতিমধ্যে অভিয়ান শুরু হয়েছে। শীঘ্র ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।