ইয়ং ব্রিগেডের সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে নারাজ গুরু দ্রাবিড়

132

বেঙ্গালুরু : ঋষভ পন্থ, ওয়াশিংটন সুন্দরদের সাফল্যে কৃতিত্ব নিতে নারাজ রাহুল দ্রাবিড়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাঁর হাতে তৈরি ইয়ং ব্রিগেড চমকে দিয়েছে। চমকের কারিগর ধরা হচ্ছে দ্রাবিড়কে। যদিও মি. ডিপেন্ডবল পুরো কৃতিত্বটা ছাত্রদেরই দিচ্ছেন। দ্রাবিড় পরিষ্কার বলে দিলেন, আমাকে অহেতুক কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাফল্যের মূল প্রশংসা প্রাপ্য ছেলেদেরই।
কৃতিত্ব নিতে না চাইলেও দ্রাবিড়ের প্রশংসার ঢেউ পৌঁছে গিয়েছে বিলেতের মাটিতেও। কেভিন পিটারসন তো বলেই দিলেন, ইংরেজ ওপেনারদের উচিত দ্রাবিড়কে গুরু বানানোর। আসন্ন স্পিনারদের সফলভাবে সামলাতে হলে একদা তাঁকে লেখা দ্য ওয়ালের চিঠি-তে চোখ বুলোনো দরকার জ্যাক ক্রলি ও ডম সিবলির। পিটারসন টুইট করেছেন, স্পিন বোলিং কীভাবে খেলা উচিত। এনিয়ে দ্রাবিড়ের পাঠানো ই-মেল আমার খেলাটাই বদলে দিয়েছিল। জ্যাক ক্রলি ও ডম সিবলির উচিত ওই চিঠিটা পড়ে দেখা। আরও একটি টুইটে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের উদ্দেশে কেপি লিখেছেন, ইসিবি, ওই চিঠিটা প্রিন্ট করে সিবলি, ক্রলিকে পাঠিয়ে দাও। চাইলে ওরা দুজনে আমার সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করতে পারে। প্রসঙ্গত, উপমহাদেশের মাটিতে কীভাবে স্পিন খেলা উচিত, জানতে চেয়েছিলেন পিটারসন। দ্রাবিড়ের পরামর্শ ছিল, অবিবেচকের মতো সামনের দিকে সবসময় পা এগিয়ে দিলে ফল উলটো হতে পারে। ব্যাটের ব্যবহার বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে টোটকা ছিল সামনের পায়ে প্যাড না পরে সতীর্থ স্পিনারদের বিরুদ্ধে নেটে ব্যাটিং অনুশীলন।
প্রাক্তন নির্বাচক কমিটির সদস্য যতীন পরাঞ্জপে, মহিলা দলের কোচ ডব্লিউভি রমনের মুখেও দ্রাবিড়-বন্দনা। রমন যেমন বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বা এ দলের ক্ষেত্রে জয়-পরাজয়কে কখনও গুরুত্ব দেয়নি রাহুল। ওর মূল লক্ষ্য ছিল উঠতি প্রতিভাদের সঠিক এক্সপোজার। ক্রিকেটাররাও জানত, তারা ঠিক সুযোগ পাবে। পাবেন নিজেদের খেলার উন্নতি ঘটানোর সুযোগ। যার সুফল দেখতে পাচ্ছি আমরা। পরাঞ্জপের কথায়, ভারতীয় এ দলে দ্রাবিড়ের মতো কিংবদন্তিকে পেয়েছে তরুণরা। জাতীয় দলে রবি শাস্ত্রীকে। ফলে ওদের উত্থান পর্ব খুব মসৃণ হয়েছে। মুম্বইয়ের এই প্রাক্তন তারকা মিলিত প্রয়াস ও সঠিক স্ট্র‌্যাটেজির কথাও তুলে ধরেন। জানান, কোন কোন ক্রিকেটারদের দিকে নজর রাখা উচিত, তার একটা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হত গুরুত্বপূর্ণ কোনও সফরের আগে। দ্রাবিড়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করত জাতীয় দল, এ, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাপোর্ট স্টাফ, নির্বাচকরা। যেমন রনজি ট্রফির পারফরমেন্স গুরুত্ব পেত এ দল বাছাইয়ে ক্ষেত্রে। উদাহরণ হনুমা বিহারী, মায়াঙ্ক আগরওয়াল।