কালিঘাটে বস্তাভর্তি পোড়া টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ‘ভাইপো’র দিকে আঙুল রাহুলের

234

বর্ধমান: কালিঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আদি গঙ্গার পাড় থেকে বস্তাভর্তি পোড়া টাকা উদ্ধারের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুললেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। সোমবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার কেঁউটা গ্রামে বিজেপির সভায় যোগ দিয়ে রাহুল সিনহা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পাশে আদি গঙ্গার পাড় থেকে বস্তাভর্তি পোড়া টাকা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে কালো টাকার কাহিনী যুক্ত আছে। ইডি, সিবিআই, না অন্য কোনও ভয়ে, কারা ওই টাকা পোড়াল তার তদন্ত হওয়া দরকার।’ রাহুল সিনহার দাবি, ওই এলাকার লোকের তো এত টাকা নেই। ওই এলাকার লোকেদের সবারই তো টালির চালার বাড়ি। ওখানেতো একটাই রাজবাড়ি। সেটা ভাইপোর বাড়ি। নিরপেক্ষ এজেন্সি দিয়ে তদন্ত করলেই সব খোলসা হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন রাহুল সিনহা।

নেতাজির জন্মদিবসের দিন কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে হওয়া সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে যাওয়ার সময় ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের কড়া কথা শুনিয়ে বক্তব্য না রেখে মঞ্চ থেকে নেমে যান। প্রাধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হওয়া সরকারি অনুষ্ঠানে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে রাহুল সিনহা বলেন, ‘মমতার জন্য ওই দিন নেতাজি অপমানিত হয়েছেন। উনি সুকৌশলে ওই দিনের মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করেছেন। যার ষড়যন্ত্রকারী মমতা নিজেই। রাজনৈতিক অভিসন্ধি পূরণের জন্য মমতা ওই দিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চটিকে কাজে লাগিয়ে ছিলেন।’

- Advertisement -

রাহুল সিনহার দাবি, এইসব অভিসন্ধি কাজে লাগবে না। কারণ দুর্গা মাতা ও শ্রী রামচন্দ্রের অভিশাপে তৃণমূল ইতিমধ্যেই ছারখার হয়ে গিয়েছে। এবার নেতাজির অভিশাপও তৃণমূলের উপরে পড়বে। তৃণমূলের বিনাশ হবেই। আর কয়েকদিন বাদে মমতা এবং তাঁর ভাইপো অভিষেকের সন্ন্যাস ছাড়া, রাম নাম ছাড়া আর কোনও পথ থাকবে না।

যদিও রাজ্যের মন্ত্রী তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি স্বপন দেবনাথ এদিন মেমারিতে দলের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করার জন্যই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সরকারি অনুষ্ঠানে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিয়েছে বিজেপির লোকজন। এমন ঘটনার মধ্য দিয়ে বিজেপির লোকজন শুধু বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকেই অপমান করেনি, নেতাজিকেও অপমান করেছে।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, ‘দিদির ‘ইনশা আল্লা’ স্লোগানের অভ্যেস রয়েছে। সেই দিদি কি ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি শুনে খুশি হতে পারেন। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে দিদির এত রেগে যাওয়ার কি বা আছে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে তীব্র আক্রমণ করে রাহুল সিনহা বলেন, ‘রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পাকিস্তানি। তাই তিনি মেটিয়াবুরুজকে মিনি পাকিস্তান বলেছেন। আর চার মাস পর আমরা সরকারে এলে ‘মিনি পাকিস্তান’ নয়, আসল পাকিস্তানে ওকে (ফিরহাদকে) পাঠাব।’

পাশাপাশি, রাহুল সিনহা বলেন, ‘পিকে ও ভাইপোর অত্যাচারে দলে দলে তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরা বিজেপিতে আসছেন। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এর আগে রাজ্যে কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হয়ে গেলে পুলিশকে দিয়ে আর মিথ্যা মামলা দেওয়া যাবে না। তখনই দলে দলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দেবেন। তৃণমূল প্রাইভেট লিমিটেডে পড়ে থাকবে শুধু পিসি আর ভাইপো।’