প্রশান্ত কিশোরকে বড়লোক পরিযায়ী বলে কটাক্ষ রাহুলের

347

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে বড়লোক পরিযায়ী বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। সোমবার বর্ধমানের জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে করে রাহুল সিনহা বলেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে ন্যক্কারজনক আচরণ করছে এই রাজ্যের সরকার। অথচ নিজেদের বড়লোক উপদেষ্টা পরিযায়ী প্রশান্ত কিশোরকে দিচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। খালি গরিবদের দেওয়ার সময় ওরা বলছে টাকা নেই।’

এদিন বিজেপির পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীকে পাশে নিয়ে রাহুল সিনহা রাজ্য সরকারের সমালোচনায় মুখর হন। শুধু প্রশান্ত কিশোরকেই নয়, রাহুল সিনহা তৃণমূলকে চাল-চোর, ডাল-চোর বলেও কটাক্ষ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে ন্যক্কারজনক আচরণ করছে। কেন্দ্র সরকার ট্রেন দিতে চাইলেও রাজ্য ট্রেন নিচ্ছে না।’ এমনকি পরিযায়ী শ্রমিকদের র‍্যাশনও ওরা চুরি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন এই বিজেপি নেতা।

- Advertisement -

অমিত শা’র ভার্চুয়াল সভার প্রসঙ্গ তুলে ধরেও তৃণমূলকে বিঁধেন রাহুলবাবু। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল অমিত শা’র ভার্চুয়াল সভা নিয়েও কটাক্ষ করছে। ওরা বলেছে, ভার্চুয়াল সভা করতে অনেক খরচ হয়।’ রাহুল সিনহা এদিন দাবি করেন, ভার্চুয়াল সভা করতে তেমন কোনও খরচই লাগে না। উল্টে রাহুলবাবুর ব্যাখ্যা, তৃণমূল তো নিজেই এখন ভিডিও কনফারেন্স করছে। আসলে ওরা মিথ্যে প্রচার করেও বিজেপির দেখানো পথেই হাঁটছে। পাশাপাশি রাহুল সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২১ অবধি বিজেপির এমন অনেক সভা হবে। সেই সভাগুলিতে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং, স্মৃতি ইরানী প্রমুখরা।

করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের লকডাউন চালু করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রাহুল সিনহা বলেন, ‘লকডাউন চালু না হলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাটা ২৫ লক্ষতে গিয়ে দাঁড়াত। এখনও সংক্রামিতের সংখ্যা প্রতিদিন ১০-১১ হাজার করে বাড়ছে। এটা যথেষ্টই চিন্তার বিষয়।’

রাহুলবাবু বলেন, ‘করোনা উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রের সরকার ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ঋণ পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই এই রাজ্যের ২৬ হাজার ৮৩৪ জন ছোট ব্যবসায়ী আবেদন করেছেন। কৃষকদের জন্যও সুলভ ঋণের ব্যবস্থা করছে কেন্দ্রের সরকার। ঋণ চেয়ে কৃষকদের আবেদনও জমা পড়তে শুরু করেছে। এছাড়াও রাস্তায় ঘুরে ঘুরে যাঁরা মাল বিক্রি করেন তাঁদের জন্যও কেন্দ্রীয় সরকার ২ লক্ষ কোটি টাকার সংস্থান রেখেছেন।’

রাহুলবাবুর অভিযোগ, ‘রাজ্য সরকার নামের তালিকা না দেওয়ায় বাংলার কৃষকরা কেন্দ্রের সরকারের দেওয়া কৃষক সম্মান বিধির ৬ হাজার টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নদীয়া ও পুরুলিয়ায় বিজেপির কিছু পঞ্চায়েত শাসক দল দখল করে নিয়েছে বলেও রাহুল সিনহা এদিন অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘লোকসভা ভোটের আগেও ওরা এমনটাই করেছিল। মানুষ তার প্রতিদান দিয়েছে। এবার ২০২১-এর বিধানসভার ভোটেও মানুষ একই প্রতিদান ওদের দেবে।’