সাত বছরেও শেষ হয়নি সেতু তৈরির কাজ, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী

142

রায়গঞ্জ: সাত বছর আগে কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। এরপর অর্ধেক কাজ শেষ হতেই স্তব্ধ হয়ে যায় নির্মাণ প্রক্রিয়া। এদিকে সেতুর অভাবে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীর। শিশু থেকে গর্ভবতী মহিলা কিংবা বয়স্করা চিকিৎসা করাতে যেতে চরম সমস্যায় পড়েন।

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের গৌরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নদীর ওপারের কয়েক হাজার বাসিন্দা যেন শহরের যোগাযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে শুধু সেতুর অভাবে। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও এত বছরেও অসমাপ্ত সেতু সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুর জন্য বিক্ষোভ করা হয়েছে। ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ রায়গঞ্জের পাড়াপুকুর এলাকার কুলিক নদীর ওপর কংক্রিটের সেতু তৈরির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজ সাত বছর ধরে থমকে। এদিকে পাড়াপুকুর, বালিরচর, দুবদুয়ার, নয়াটলি, নিমতলা, অন্ততপুর, ভিটিয়ার, বালুচরের বাসিন্দাদের প্রায় আট থেকে বারো কিলোমিটার দূরত্বে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আসতে হলে নদী পেরিয়ে আসতে হয়। নদী পেরিয়ে সাপ্তাহিক সামপুরহাট কিংবা বাজার থেকে শুরু করে হাইস্কুল এমনকি পঞ্চায়েত অফিসে আসতেও বিহারের আবাদপুর থানা ঘেঁষা নদীর ওপারের রায়গঞ্জের বহু বাসিন্দার নদীপথই একমাত্র ভরসা।

- Advertisement -

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় পাড়াপুকুর এলাকার কুলিক নদীর ওপর প্রায় ৭৭ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জন্য সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন তহবিল খাতে প্রায় ৮ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়। জেলা পরিষদের তৎকালীন সভাধিপতি কংগ্রেসের মোক্তার আলি সর্দার ওই সেতুর শিলান্যাস করেন। কিন্তু এতদিনেও কেন সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হল না? এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন জানান, সেতুর কাজ আবার শুরু হবে হবে বলে শুনেছেন। খোঁজ নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) দীপাঙ্কর পিপলাই জানান, কি অবস্থায় আছে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদ সূত্রে দাবি করা হয়, গৌরি পঞ্চায়েয়ের রুদ্রখন্ড মৌজার সামপুরহাট সংলগ্ন পাড়ারপুকুর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত কুলিক নদীর ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার তন্ময় সাহা জানান, এখনও তাঁর কাছে সেতুর কাজের কোনও দায়িত্ব আসেনি। বিষয়টি দেখা হবে।