গোধূলি বেলায় শুরু হয় প্রতিমা গড়ার কাজ, বিসর্জন সূর্যাস্তের আগেই

116

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: সময় পরিবর্তন হলেও রায়গঞ্জের দেবীনগর কালীবাড়ির পুজোর নিয়মে একচুল পরিবর্তনও হয়নি। প্রথা মেনে আজও প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় দীপাবলিতে, সূর্যাস্তের পর। রাতে শাস্ত্রবিধি মেনে হয় পুজো-অর্চনা। পরদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা।

কথিত আছে, একসময় ডাকাত দলের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রচলন ছিল নরবলি প্রথার।গ্রামবাসীদের কথায়, একসময় দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায়ের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর পুজোর হতো। খোদ মহারাজা উপস্থিত থাকতেন সেসময়। তবে, রাজপাট বিলুপ্ত হওয়ার পর পুজোর দায়িত্বভার বর্তায় গ্রামবাসীদের হাতে। অন্যদিকে, কালক্রমে নরবলির পরিবর্তে পাঁঠা বলি প্রথার প্রচলন হয়। যদিও করোনা আবহে ইতি পড়েছে বলি প্রথায়। কিন্তু পুজোর নিয়মে কোনও বদল হয়নি। অতীতের নিয়ম মেনে আজও সূর্যাস্তের পর মাত্র একবেলা সময়ের মধ্য়েই প্রতিমা গড়া হয়। অন্যদিকে খোলা আকাশের নীচেই চলে পুজো-অর্চনা। মন্দিরের সীমানা প্রাচীর থাকলেও নেই কোনও ছাদ। গ্রামবাসীদের কথায়, দেবীনগর কালীবাড়ির প্রতিমা খুবই জাগ্রত।

- Advertisement -

পুজো কমিটির সদস্য গৌড়শংকর মিত্র জানান, বিগত কয়েকশো বছর যাবৎ এই পুজো হয়ে আসছে। অতীতের সব নিয়ম মেনেই হয় পুজো। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষের সমাগম হয় মন্দিরে। তবে, গত বছর করোনার জেরে পূণ্যার্থীরা পুজো দিতে পারেননি। তবে এবছর মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকে পূণ্যার্থীরা পুজো দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পূর্ণার্থীদের ভ্যাকসিনের ডবল ডোজ থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক পড়তে হবে সকলকে।