ট্রলি নেই, যাতায়াতে রোগীর ভরসা ‘কোল’

184

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের শীতগ্রামের বাসিন্দা পেশায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ মনিরুদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার দুপুরে তিনি স্থানীয় একটি বাজার থেকে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি। চোট লাগে তাঁর ডান পা, কোমর ও বাঁ হাতে। পরিবারের লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। যন্ত্রণায় মনিরুদ্দিন হাঁটতে পারছিলেন না। তাই তাঁকে গাড়িতেই বসিয়ে পরিবারের লোকেরা হুইলচেয়ারের খোঁজ শুরু করেন। যদিও তা মেলেনি।

মনিরুদ্দিনের ভাইপো শেখ সালাম বলেন, প্রায় ২০ মিনিট ধরে হাসপাতালে ছোটাছুটি করে একটি হুইলচেয়ার জোগাড় করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত জেঠুকে কোলে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। তিনি জানালেন, এরপর চিকিৎসকরা তাকে ছ’তলায় পুরুষ সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন। সমস্যা হয় তখনও। তাই ফের তাঁকে কোলে নিয়েই লিফটে উঠি। ছ’তলায় উঠে ফের তাঁকে কোলে তুলে ওয়ার্ডে নিয়ে যান তাঁরা।

- Advertisement -

২০১৮ সালের নভেম্বরে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উন্নীত করে রাজ্য সরকার। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাঁটাচলা করতে অক্ষম রোগীদের জরুরি বিভাগে ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০টি হুইলচেয়ার ও ৪০টি নতুন ট্রলি কেনে। অভিযোগ, গত ছ’মাস ধরে ধীরে ধীরে হাসপাতালের বেশিরভাগ হুইলচেয়ার ও ট্রলি ভেঙে গিয়েছে। ফলে প্রায় এক মাস ধরেই হুইলচেয়ার ও ট্রলির অভাবে রোগীদের জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তাঁদের পরিবারের লোকেরা। এই পরিস্থিতিতে মাঝেমধ্যেই রোগীদেরকে কোলে করেই জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁদের পরিবারের লোকেরা।

১০ তলার ওই মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চারশো শয্যা রয়েছে। হাসপাতালের তিনতলায় পুরুষ মেডিসিন, চারতলায় মহিলা মেডিসিন, পাঁচতলায় ইএনটি, আই, ছ’তলায় পুরুষ ও মহিলা সার্জিক্যাল এবং অর্থোপেডিক ও সাততলায় প্রসূতি ওয়ার্ড রয়েছে। একমাস ধরে এমনিতেই অসুবিধে হচ্ছে। রোগীর পরিজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জরুরি বিভাগের বাইরে একাধিক ভাঙা হুইলচেয়ার পড়ে রয়েছে। কিন্তু রোগীদের জরুরি বিভাগ বা ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেগুলো মেরামতিও করছেন না।

হাসপাতালের অ্যাসিস্টেন্ট সুপার প্রিয়ঙ্কর রায়ের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কেউ কোনও অভিযোগ জানায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।