দীর্ঘদিন গরহাজির থাকায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ডেপুটি সুপারকে শোকজ

180
ফাইল ছবি

রায়গঞ্জ: দীর্ঘদিন ধরে গরহাজির রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ডেপুটি সুপার চিকিৎসক পান্না বিশ্বাস একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনও কাজের কাজ হয়নি। উত্তরবঙ্গ সংবাদের খবরের জের অবশেষে ডেপুটি সুপারকে শোকজ করল মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুরে ইমেল মারফত শোকজ করার পাশাপাশি লিখিত চিঠিও পোস্ট করা হয় ডেপুটি সুপারের ঠিকানায়। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ডেপুটি সুপারকে শোকজ করা হয়েছে। সমস্ত বিষয় স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে একটা চিঠি করা হয়েছিল। তাঁর উত্তরে আমরা সন্তুষ্ট নই। সেই কারণেই শোকজ করা হয়েছে।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে শোকজের উত্তর না দিলে পরবর্তীতে পদক্ষেপ করা হবে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১০ তারিখে উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হয়েছিল দীর্ঘ দুই মাস যাবত গরহাজির ডেপুটি সুপার। সেই খবর প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরপর একের পর এক চিঠি দিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সেই ব্যাখ্যাতে সন্তুষ্ট নন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। এরপরেই এদিন শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে ডেপুটি সুপারের অনুপস্থিতির জেরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনেক কাজই থমকে রয়েছে। সেই সুযোগে সক্রিয় হয়েছে দালালচক্র। চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকেদের।

- Advertisement -

শুধু তাই নয় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিবন্ধী কার্ড করতে আসা মানুষজনকেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। যেসব পড়ুয়া নার্সিংয়ে চান্স পেয়েছেন, তাঁদের ফর্ম ফিলাপে ডেপুটি সুপারের স্বাক্ষর অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু তিনি না থাকায় চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সদ্য নার্সিংয়ে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের। হাসপাতালে এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোমে রোগী নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অসচ্ছল পরিবারগুলি। ডেপুটি সুপার পান্না বিশ্বাস গত মাস থেকে লম্বা ছুটিতে রয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের অভাব অভিযোগ জানাতে গিয়ে রীতিমতো হয়রানির মুখে পড়ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসের ১৭ তারিখ থেকে হাসপাতালে ডেপুটি সুপার পান্না বিশ্বাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ও অনলাইনে ছুটির আবেদন না করেই বাড়িতে বসে রয়েছেন। পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে মূলত হাসপাতালে ডেপুটি সুপারকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। তিনি ছুটিতে থাকায় পরিষেবার ক্ষেত্রে হাসপাতালে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই বিষয় যদিও ডেপুটি সুপার পান্না বিশ্বাসকে বারংবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেনি।