দেড় বছরের শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ

244

রায়গঞ্জ: শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিশুবিভাগ।রবিবার মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যদের হাতে বেধড়ক মারধর খেয়ে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শম্ভু পাসওয়ান। হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার সহ একাধিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ভাংচুরের অভিযোগও উঠেছে।

সূত্রের খবর, তিনদিন আগে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করে তারানুন নেশাকে(দেড় বছর)। বাড়ি রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া এলাকায়। এদিন সকাল থেকেই তার তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে শুরু করে। বারংবার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে ডেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি। নার্সের তরফ থেকেও ওই চিকিৎসককে ফোন করা হয়। একঘন্টা পরে এসে ওই শিশুকে একটি ইনজেকশন দিতেই নেতিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় ওই শিশুর। কর্তব্যরত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শম্ভু পাসওয়ান ওই শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিশুর পরিবার-পরিজনেরা। তারা বেধড়ক মারধর শুরু করে চিকিৎসককে। সেখান থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চিকিৎসক। হাসপাতালের ক্যাম্পাসের মধ্যেও বেধড়ক মারধর করা হয়। চিকিৎসককে বাঁচাতে গেলে, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও মারপিট শুরু হয়ে যায়। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নয় ওই মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের শিশু বিভাগ। খবর পেয়ে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

- Advertisement -

এদিকে পুলিশ আসতেই মৃত শিশুর পরিবারের লোকেরা গা-ঢাকা দেয়। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শম্ভু পাসওয়ানের দাবি, “চিকিৎসার কোনও গাফিলতি হয়নি। এর আগেও এই শিশুটি তিনবার মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে ভর্তি হয়েছে। আমরাই চিকিৎসা করেছি। ওই শিশুর হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। হৃদযন্ত্রে একটি ফুটোও আছে। তিনবারই অন্য মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু ওরা নিয়ে যায়নি। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবার রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে। শনিবারই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নিয়ে যায়নি। পরিবারের গাফিলতির জন্য মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুটির।

যদিও চিকিৎসকের দাবি মানতে চান নি মৃত শিশুর বাবা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ চিকিৎসক দেরি করে আসার জন্যই আমার মেয়েকে মরতে হল‌। হাসপাতালের তরফ থেকে বারংবার ফোন করলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসক না আসায় মৃত্যু হয়েছে আমাদের মেয়ের।”

মৃত শিশুর মা জিন্নাতুন বেগম বলেন,“ আমার মেয়ের জন্মের পর থেকেই হৃদযন্ত্রে সমস্যা। ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। টাকার অভাবে নিয়ে যেতে পারিনি। তবে শ্বাসকষ্ট হলেই হাসপাতালে ভর্তি করতাম। সেখান থেকে সুস্থ করে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যেতাম। এবার চিকিৎসকের গাফিলতির জন্য মৃত্যু হল আমার মেয়ের।”

পরিবারের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও রফিকুল ইসলামের দাবি, আমরা ডাক্তারকে মারধর করিনি। কোনও ভাঙচুরও করা হয়নি। উল্টে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী, চিকিৎসক, নার্স তাদের ওপর চড়াও হয়।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন,” এদিন সকাল এগারোটার নাগাদ শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে, শিশু বিভাগে চিকিৎসকের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। সমস্ত ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই, অভিযুক্তদের সন্ধান করতে পারবে পুলিশ। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”

রায়গঞ্জ থানার এক পুলিশের আধিকারিক বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হচ্ছে। খবর লেখা পর্যন্ত দেড় বছরের শিশুর মৃতদেহ রয়েছে শিশু বিভাগের বেডে। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা জিন্নাতুন খাতুন।