ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ রুখতে বিশেষ সতর্কতা রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের

ফাইল ছবি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: করোনা সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসার ফলে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও কোভিডের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

মেডিকেল কলেজে শুক্রবার ইনফেকশন কন্ট্রোল কমিটি তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তারা মনিটরিং করছে। যে কোনও রোগী হাসপাতালে আসার পর তাঁদের কোথায় চিকিৎসা হবে, সেটা তারাই সুনিশ্চিত করে দিচ্ছেন। সন্দেহভাজন হলে তাঁকে আইসোলেশন বিভাগে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, ইনফেকশন কন্ট্রোল কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তিনজন প্রফেসর, একজন নার্সিং সুপার এবং একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে রাখা হয়েছে। কোনও সন্দেহভাজন রোগী এলে তাঁর লালার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি বিভাগে আলাদাভাবে বেড তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন রোগীদের অন্যান্য রোগের থেকে কিছুটা দূরে অথবা আইসোলেশন বিভাগে রাখা হচ্ছে। তাছাড়াও অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে পিপিই প্রদান করা হয়েছে। সর্তকতা অবলম্বন করে বেশকিছু বহির্বিভাগ আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ‘মাতৃমা’ বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যে কোনও অপারেশন করার আগে রোগীর করোনা টেস্ট করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এখনও পর্যন্ত কোনও চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হননি। যেসব নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে সংক্রমণের ভয়ে মেল সার্জিক্যাল বিভাগসহ একাধিক বিভাগে রোগী আসা প্রায় বন্ধ। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে দ্বিতীয় তলায় মহিলা আইসোলেশন ওয়ার্ড। মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন পুর নিবাসটিকে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে।

সম্প্রতি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের বেশ কয়েক জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সিসিইউ বিভাগের কর্মীদের হাসপাতালের মধ্যেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে হাসপাতালে একের পর এক স্বাস্থকর্মীর করোনা ধরা পড়ায় হাসপাতাল এলাকা কার্যত এড়িয়ে চলছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া আসছেন না কোনও রোগী।