পাঁচ চিকিৎসককে শোকজ করল রায়গঞ্জ মেডিকেল কর্তৃপক্ষ

ফাইল ছবি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: বিনা অনুমতিতে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অভিযোগে পাঁচ চিকিৎসককে শোকজ করল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই পাঁচ জন চিকিৎসককে শোকজ করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে ওই পাঁচ জন চিকিৎসক কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় নিজেদের বাসভবনে চলে যান। রেড জোন এলাকা থেকে চলতি মাসের ২ তারিখে গভীর রাতে রায়গঞ্জে প্রবেশ করেন তাঁরা। এরপর ওই চিকিৎসকরা কোয়ারান্টিনে না গিয়ে চুপিসারে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকেন।

- Advertisement -

এদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরেই ওই চিকিৎসকদের শোকজ করার পাশাপাশি কোয়ারান্টিনে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। বুধবার তাঁদের লালা (সোয়াব) নিয়ে মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, “ওই পাঁচ জন চিকিৎসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কলকাতা, হাওড়া শহরতলী এলাকায় নিজের বাসভবনে থেকে চলতি মাসের ২ তারিখে রায়গঞ্জে আসেন‌। এরপর থেকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের রোগীদের চিকিৎসা করেন। এদিন এই খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচজন চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে।”

কী কারণে বিনা অনুমতিতে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন, কেন কোয়ারান্টিনে যাননি তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে ওই পাঁচজন চিকিৎসককে। ইতিমধ্যেই ১৫ জন চিকিৎসক, তিনজন নার্স, দুজন স্বাস্থ্যকর্মী বিনা অনুমতিতে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে দীর্ঘ একমাস যাবৎ কলকাতা হাওড়া ও মেদিনীপুরের বাড়িতে রয়েছেন।

চলতি মাসের ৩ তারিখ তাদের চিঠি দেওয়া হয়। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হলেও এদিন বিকেল পর্যন্ত সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ২০ জন কাজে যোগদান করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন।

তবে চিকিৎসকদের একাংশ এহেন কান্ডে রীতিমতো আতঙ্কিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। করোনা মোকাবিলায় যখন চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই কর্মী ও গ্রুপ ডি স্টাফদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তখন এই সমস্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বহাল তবিয়তে কলকাতা শহর ও শহরতলি এলাকায় বাড়িতে বসে রয়েছেন। এমনটাই অভিযোগ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের।