‌রায়গঞ্জ মেডিকেলে সদ্যোজাতের মৃত্যুতে তুলকালাম

210

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নার্স, আয়াদের গাফিলতিতে সদ্যোজাতর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসের ২৭ তারিখ প্রসব বেদনা নিয়ে রায়গঞ্জ থানার গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের নুরিপুরের বাসিন্দা মঞ্জু খাতুন হাসপাতালে ভর্তি হয়। গভীর রাতে তিনি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। অযিভযোগ, মঙ্গলবার পরপর দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়ায় সদ্যোজাত অবস্থা ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। রাতে শিশুটির মৃত্যু হলেও জানানো হয়নি পরিবারকে। বুধবার সকালে মঞ্জু খাতুনের মা মমতা বেগম প্রসূতি বিভাগে গিয়ে জানতে পারেন নাতির মৃত্যু হয়েছে। কর্তব্যরত নার্স ও আয়াদের গাফিলতিতেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।
পরে পরিবারের লোকজন ওয়ার্ডের ভিতরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। অভিযোগ, শিশুমৃত্যুকে কেন্দ্র করে মেডিকেলের প্রসূতি বিভাগে কর্তব্যরত আয়াদের জুতো দিয়ে মারা হয়। এর ফলে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার খবর যায় রায়গঞ্জ থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
মৃত সদ্যোজাতের দিদা মমতা বেগমের অভিযোগ, মেয়েকে ভর্তি করার পর থেকেই আমি হাসপাতালে রয়েছি। গতকাল রাতে নাতিকে পরপর দু’টি ইঞ্জেকশন দেন নার্স। তারপর ঝিমিয়ে যেতে শুরু করে ও। নার্স ও আয়া মাসিদের বারংবার বলেও কিছুই হয়নি। ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর প্রচণ্ড জ্বর এসেছিল নাতির। নাতির যাতে ভালো চিকিৎসা হয় সেজন্য নার্সকে অনুরোধ করি। কিন্তু আমাকে ওরা ওয়ার্ড থেকে বের করে দেয়। এদিন সকালে মেয়ের কাছে যাই। সেখানে গিয়ে নাতির খোঁজ করি। নার্স জানায়, নাতির মৃত্যু হয়েছে। এরপরে মেজাজ হারিয়ে আয়া মাসিদের মারধর করি।
শিশুটির বাবা হাসির আলি বলেন, স্ত্রী সাধারণ প্রসব করে। ছেলে জন্মের পর সুস্থই ছিল। চিকিৎসায় গাফিলতিতে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এরজন্য মূল দায়ী নার্স ও আয়ারা।
এই নিয়ে পরিবারের তরফে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে সুপারের কাছে অভিযোগ করেন নুরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য আইয়ুব আলি। তাঁর বক্তব্য, নার্স ও আয়াদের গাফিলতির জন্যই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সমস্ত বিষয়ে লিখিত আকারে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ও মেডিকেল কলেজের সুপারকে জানানো হয়েছে।
গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা মণ্ডল বলেন, সমস্ত বিষয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ওই ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসূতি বিভাগের নার্সদের বক্তব্য, ওই পরিবারটির তরফে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। শিশুটির জন্মের পরেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। আমরা বিশেষ যন্ত্রের রেখে শিশুটিকে চিকিৎসা করেছিলাম। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত্যু হয়েছে।