সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগ জামাইয়ের বিরুদ্ধে

242

রায়গঞ্জ: সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগ জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এমনই অভিযোগ উঠল রায়গঞ্জ থানার বারোদুয়ারী এলাকায়। মৃতের নাম হারাধন দে সরকার (৬৮)। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পুলিশ খুনের ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর আগে রায়গঞ্জ থানার সরোজ কলোনীর বাসিন্দা হারাধন দে সরকারের মেয়ে বিজয়া রানী দে সরকারের সঙ্গে সহিন্দর ঘোষের ছেলে সঞ্জীব ঘোষের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে শ্বশুরের বসতবাড়ির দু’কাটা জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জামাই সঞ্জীব ঘোষ সহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কিন্ত বসতবাড়ি বিক্রি করতে চাননি হারাধনবাবু। কারণ বসতবাড়ি বিক্রি করে দিলে তাঁরা পথে বসবে। সেকারণে বসতবাড়ি বিক্রি করতে রাজি হননি হারাধনবাবু। শ্বশুরবাড়ির জমি ও টাকা হাতিয়ে নিতে না পারায় জামাই সঞ্জীব ঘোষ শ্বশুরবাড়ির যে কয়েকটি ছাগল ছিল সেগুলো নিয়ে চলে যান। শ্বশুরের উপর চাপা ক্ষোভ থেকে যায়। এদিন বাড়ির পাশে হারাধনবাবু গোরু চড়াতে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই সময় আচমকা সঞ্জীব ও তাঁর বাবা সহিন্দর হারাধনবাবুর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। মাঠে হারাধনবাবুকে একা পেয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। ঘটনাস্থলেই হারাধনবাবুর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন হারাধনবাবুর ছোট মেয়ে জয়া ঠাকুর। তিনি হারাধনবাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। খুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মেয়ে বিজয়াদেবী এবং তাঁর স্বামী সঞ্জীবকে আটক করেছে পুলিশ। যদিও অভিযুক্ত সহিন্দর ঘোষ পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

- Advertisement -

মৃতের স্ত্রী মায়া দে সরকার বলেন, ‘মেয়ে জামাই ও শ্বশুর মিলে খুন করেছে। কারণ বাড়ির জমি জামাইয়ের নামে লিখে দিতে বলেছিল। কিন্ত জমি লিখে দিলে আমরা থাকব কোথায় সেকারণে দিইনি। বাড়ির গোরু বিক্রি করে ব্যবসা করার জন্য টাকা চেয়েছিল, তা না দেওয়ায় আমাদের মারধর করে ছাগলগুলি কেড়ে নিয়ে গিয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি চাই।’