কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় শিশুকন্যা সহ স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

241

রায়গঞ্জ: কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে সদ্যোজাত শিশুকন্যা সহ স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ। এরপর মেয়ের বাবার বাড়ির লোকেরা মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে দিতে এসে ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে ইটাহারের কাপাসিয়া গ্রামে। রক্তাক্ত অবস্থায় সোজা ইটাহার থানায় চলে আসেন যখম মড়হিলা সহ ৩ জন। এরপর জখমদের উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে জখমদের নাম রশিদা বানু, আমিনা বিবি, আরজিনা বানু। তাদের অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে কাপাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে রশিদা বানুর বিয়ে হয়। এক বছর ধরে সংসার করলেও তেমন কোন বিবাদ বিতন্ডা হয়নি। মাসখানেক আগে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন রশিদা বানু। কিন্তু সেই খবর শুনেই অশান্তি জুড়ে দেয় শফিকুল ইসলাম।

- Advertisement -

সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর অশান্তি আরও বাড়ে। ছোটখাটো অজুহাতে স্ত্রীকে মারধর করত বলে অভিযোগ। গতকাল রাতে কাজ থেকে ফিরে শফিকুল দেখেন মেয়ে কান্নাকাটি করছে রশিদ বানুর অভিযোগ ছোট্ট এক রত্তি শিশুকে ধমক দিতে শুরু করে। কিন্তু তাতে কান্না আরো বেড়ে যাওয়ায় তুলে আছাড় মারতে যায়। ওই অবস্থায় কোনরকমে স্বামীর কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে রাতেই বাবার বাড়িতে ফিরে আসি।

এদিন মা ও বোনের সঙ্গে স্বামীর বাড়িতে আসলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে ,আমার মাকে ও বোনকে কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে তিনজন। কোলের শিশু থেকে পড়ে যায় বারান্দায়। এরপর গ্রামবাসীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ইটাহার থানায় সেখান থেকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তাদের অবস্থার ক্রমশ অবনতি হওয়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করেছে কর্তব্যরত শল্য চিকিৎসক। ইটাহার থানার ওসি অভিজিৎ দত্ত বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত স্বামী শফিকুল ইসলাম পলাতক।