আগামী প্রজন্মকে সবুজের স্বপ্ন দেখাতে ‘ট্রি-ব্যাংক’

377

রায়গঞ্জ: আগামী প্রজন্মকে সবুজের স্বপ্ন দেখাতে এবং তাদের সুস্থ রাখতে বুধবার রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দিরের (ইংরেজি মাধ্যম) উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ সূচনা হল ট্রি-ব্যাংকের। কর্তৃপক্ষের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগ প্রথম। তবে এই ব্যাংক কিছুটা ভিন্ন। যে ব্যাংকে সুদ মেলেনা ঠিকই, তবে সুদের থেকেও মেলে বেশি কিছু। যার ফলাফল সুদূরপ্রসারী। বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষপ্রদান সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাঝেই চারাগাছকে মহীরুহে পরিণত করার লক্ষ্যে একটি ‘ট্রি-ব্যাংক’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সারদা বিদ্যামন্দির।

২০২০-র শেষ লগ্নে করোনা আবহে প্রকৃতিকে দূষণমুক্ত করে তুলতে এগিয়ে এসেছে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আর দু’মাস পর শুরু হবে নতুন বছর। বিশ্বজুড়ে মহামারী চলা বছরের শেষ প্রান্তে এসে প্রত্যেকে সবুজের স্বপ্ন দেখছেন। বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেন সবুজ। তাই তাঁরা উদ্যোগ নিয়েছেন, ট্রি-ব্যাংক তৈরির।

- Advertisement -

এদিন সকালে রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরে অবস্থিত সারদা বিদ্যামন্দিরের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতায় উদ্বোধন হল এই কর্মসূচির। উপস্থিত ছিলেন গৌড়বঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌরেন বন্দ্যোপাধ্যায়, বানবোল হাইস্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ট্রি প্ল্যান্টেশন বিভাগের রিসার্চ অফিসার তন্ময় চৌধুরী, সারদা বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষ ধ্রুবজ্যোতি অধিকারী, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তথাগত ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা।

প্রসঙ্গত, বহু মানুষের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন গাছের চারা জন্মায়। লোকবল হোক কিংবা জায়গার অভাব, সেই সব চারা বাঁচানো বহুক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এই বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষকেরা সেই সমস্ত চারাগাছ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংগ্রহ করে ‘ট্রি-ব্যাংক’-এ নিয়ে আসবেন ও তা যত্ন সহকারে বড় করে তুলবেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও শিশুদের জন্মদিনে ‘ট্রি-ব্যাংক’ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গাছ দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, গাছ দেওয়ার পর সংগঠনের সদস্যরা নিয়ম করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে বসানো গাছ ও তার বৃদ্ধি পরিদর্শন করবেন ট্রি-ব্যাংকের সদস্যরা।

ট্রি-ব্যাংকে একসঙ্গে কয়েকশো গাছ রাখার ব্যবস্থা থাকছে। এই ব্যাংকে ফুল, ফল, পাতাবাহার সহ মেহগিনি, শিশু, সেগুন, লম্বুরের মতো বিভিন্ন বৃক্ষ জাতীয় গাছ যেমন থাকবে তেমনি থাকবে বিভিন্ন ঔষধি গাছও।

সারদা বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষ ধ্রুবজ্যোতি অধিকারী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে আমরাই এই প্রথম ট্রি-ব্যাংক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এই ব্যাংক তৈরি করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সবুজপ্রীতি ও সবুজ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক চন্দ্র নারায়ণ সাহা বলেন, ‘কার্বন-ডাই-অক্সাইড মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে আমাদের। এক্ষেত্রে সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা আজ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। আগামীদিনে অক্সিজেনে ভর্তি স্কুল হবে সারদা বিদ্যামন্দির।’

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌরেন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গন স্বাস্থ্যকর সবুজ নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলা আবশ্যক। আর সেই ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়েই বিদ্যালয়কে পড়ুয়াদের কাছে মুক্তাঙ্গন রূপে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ অভিনব ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটতে চলেছে এই বিদ্যালয়।’