তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা প্রত্যাহার ঘিরে বিজেপি যোগের জল্পনা

223

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: বিধানসভা ভোটের মুখে শাসকদলের তিন প্রভাবশালী নেতার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নিল প্রশাসন। এই নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলেও জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে কি এই নেতারা শাসক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেবেন বলেই নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সেই সিদ্ধান্তে এখনও সিলমোহ মেলেনি। তবে তাতেও জল্পনা আটকানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি এর পেছনে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা কর্মাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, পূর্ণেন্দু দে ও রায়গঞ্জ পুরসভার কাউন্সিলর অর্ণব মণ্ডলের নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনজনই নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। রায়গঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর অর্ণব মণ্ডল বলেন, ‘আমার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে।আমার কাছে নিরাপত্তারক্ষী রিলিজ অর্ডার নিতে এসেছিল আমি দেইনি।’তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি তথা জেলা পরিষদের বন কর্মাধ্যক্ষ পূর্ণেন্দু দে বলেন, ‘আমি বর্তমানে কলকাতায় রয়েছি।বিষয়টি কানে এসেছে রায়গঞ্জে গিয়ে বুঝতে পারব।‘জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য তথা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। জেলায় পুলিশ কম আছে বলে। এই বিষয়টি নিয়ে একাংশ ব্যক্তি গুজব ছড়াচ্ছে। আমি নাকি বিজেপিতে চলে যাব।সেই কারণে আমার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। আমি এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে নারাজ।’
উত্তর দিনাজপুর জেলায় বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। শাসক দলের বেশ কিছু নেতা শুভেন্দুর অনুগামী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে পরিচিত।শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে চলে যাওয়ায় ও রাজীব ব্যানার্জি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে এই নেতাদের নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ায় জল্পনা ছড়িযেছে। তবে এই তিন নেতাই দল ছাড়ার বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণীর সঙ্গে যোগ রয়েছে অর্ণব বাবুর। সব সময় তাঁর দপ্তরে তাকে দেখা যায়। কৃষ্ণ কল্যাণীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তাকে কোনঠাসা করা হল কিনা তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়েই শাসক শিবিরের নেতারা অনেকে ধন্দ্বে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগারওয়াল বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করব না।’তৃণমূলের মুখপাত্র তথা রায়গঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান সন্দ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
কালিয়াগঞ্জের চেয়ারম্যান কার্তিক পাল, রায়গঞ্জের শিল্পপতি তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ কল্যাণী সহ একগুচ্ছ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি ও জেলা পরিষদের সদস্য দলবদল করতে পারে বলে একটা চাপা গুঞ্জন রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে নিরাপত্তা রক্ষী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এই গুঞ্জনকে আরও জোরদার করেছে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য যুব সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে ফোন করা হলে তিনি এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। যদিও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা মোশারফ হোসেনের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব ব্যানার্জির সুসম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া তৃণমূলের বিধায়ক প্রবীর ঘোষালের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদের একাধিক সদস্য দিন কয়েক আগে রায়গঞ্জ থানার কমলাবাড়ী এলাকার এক বিজেপি নেতা জয়ন্ত রায়ের বাড়িতে বিজেপির কিছু হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই রিপোর্ট গোয়েন্দা দপ্তরের কর্তারা রাজ্য নেতৃত্বকে দিয়েছে বলে সূত্রের খবর।