চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : আগাম কিছু না জানিয়ে রেল দিনহাটা স্টেশন থেকে ব্যবসায়ীদের মালপত্র ট্রেনে তোলা বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। বেশি টাকা খরচ করে তাঁরা মালপত্র অন্যত্র পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। সমস্যা মেটাতে রেলকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো উত্তর আসেনি বলে তাঁদের অভিযোগ। সমস্যা মেটানোর দাবিতে ব্যবসায়ীরা বুধবার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রেল অবশ্য শীঘ্রই পরিসেবা চালুর আশ্বাস দিয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সিনিয়ার ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার অমরমোহন ঠাকুর বলেন, ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে কিছু সমস্যা থাকায় দিনহাটা রেলস্টেশন থেকে ব্যবসায়ীদের মালপত্র ট্রেনে তোলা বন্ধ করা হয়েছিল। শীঘ্রই ওই পরিসেবা চালু করা হবে।

দিনহাটা থেকে আলু, তামাক, বিভিন্ন মশলা সহ নানা পণ্য বিহার, অসম সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। খরচ কম পড়ায় ব্যবসায়ীদের একটি বড়ো অংশই এসব পরিবহণে ট্রেনকে গুরুত্ব দেন। এসব পণ্য প্রথমে দিনহাটা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে তোলা হয়। সেগুলিকে প্রথমে আলিপুরদুয়ার জংশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এসব পণ্য ওই জংশনে নামিয়ে বিভিন্ন ট্রেনে তুলে দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হয়। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকে ট্রেনে করেই এভাবে তাঁদের মালপত্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে আসছেন। কিন্তু ৮ জুলাই থেকে রেল দিনহাটা রেলস্টেশন থেকে ব্যবসায়ীদের মালপত্র ট্রেনে তোলা বন্ধ করেছে। এরপর থেকেই ব্যবসায়ীদের একটি বড়ো অংশ সমস্যায় পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তাঁরা গাড়ি ভাড়া করে তাঁদের বিভিন্ন পণ্য দিনহাটা থেকে আলিপুরদুয়ার জংশনে নিয়ে গিয়ে রেলকে দিচ্ছেন। এতে একদিকে তাঁদের যেমন বেশি খরচ হচ্ছে অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে অনেকটা সময়ও নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মালপত্র দিনহাটা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে তুলে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কিছুটা রোজগার হত। বর্তমানে ব্যবস্থাটি বন্ধ থাকায় তাঁদের রোজগার বন্ধ হয়েছে। সংসার চালাতে এই বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা রেলের ভূমিকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। দিনহাটা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে পণ্য তোলা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁদের এসব মালপত্র আলিপুরদুয়ার জংশনে নিয়ে য়েতে হচ্ছে বলে রাজেশকুমার জৈন, মদন কুণ্ডুর মতো ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, কোনো এক অদৃশ্য কারণে রেল এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জেরে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পাশাপাশি, রেলেও রাজস্বও মার খাচ্ছে। সবকিছু জানিয়ে আমরা ডিআরএম-কে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু তার কোনো উত্তর আসেনি। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা বুধবার ডিআরএম-এর সঙ্গে সরাসরি দেখা করবেন বলে রানাবাবু জানিয়েছেন।